insta logo
Loading ...
×

নদীতে বান, জলের তলায় যন্ত্র, জলহীন কুদাগাড়া

নদীতে বান, জলের তলায় যন্ত্র, জলহীন কুদাগাড়া

দেবীলাল মাহাত, আড়শা:

নদীতে বান আসায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে নদীতে থাকা পাইপ লাইনের যন্ত্রাংশ। তার জেরে প্রায় আড়াই মাস ধরে পানীয় জল পরিষেবা বন্ধ আড়শা ব্লকের কুদাগাড়া জল প্রকল্পে। তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে পাম্প হাউসের ঘর । ফলে জল না পেয়ে সমস্যায় আড়শা ব্লকের পাঁচটি গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা। অভিযোগ, ২০২১ সাল থেকে ফি বছর বর্ষাকাল এলেই এই প্রকল্পে পানীয় জল পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায় । স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে কাজের মান নিয়েও। তাই পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে বাসিন্দারা নদী থেকে চুয়া খুঁড়ে জল পান করছেন। আবার কোথাও নলকূপে জল নিতে পড়ছে মহিলাদের লম্বা লাইন। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, “দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।”
পানীয় জলের সমস্যা সমাধানের জন্য ২০১৩ সালে এই প্রকল্প গড়ে ওঠে। প্রকল্প থেকে আড়শার বামুনডিহা, কুদাগাড়া, কাঞ্চনপুর জুরাডি, মানপুর – এই গ্রামগুলিতে নলবাহিত পানীয় জল সরবরাহ করা হয়। প্রথমে পাড়ায় পাড়ায় পানীয় জলের কল থাকলেও, ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে বাড়িতে বাড়িতে জলের সংযোগ দিয়েছে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর। বাসিন্দারা জানান, ” বছরের বাকি দিনগুলিতে জল পরিষেবা মিললেও ,গত আড়াই মাস ধরে জল পরিষেবা মিলছে না।”

বামুনডিহা গ্রামের গীতা লায়া,সন্তোষী মাহাতোরা বলেন, “গ্রামে যথেষ্ট নলকূপ নেই। তিনটি নলকূপ থাকলেও, দুটির জল ব্যবহার যোগ্য নয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে থাকা নলকূপটিই গ্রামবাসীদের ভরসা। সকাল হলেই সেখানে ভীড় জমে যাচ্ছে। এতদিন প্রকল্পের জল মেলাতে কোনো অসুবিধা হতো না। হঠাৎ বন্ধ হয়ে পড়ায় সমস্যা বেড়েছে।”

আবার বামুনডিহা পুস্তমডি পাড়ার বাসিন্দাদের পানীয় জলের ভরসা বলতে নদীতে চুয়া খুঁড়ে জল সংগ্রহ। নদীতে বান এলে, তাও বন্ধ। তখন নদীতে বয়ে যাওয়া জলেই পান করতে হয়। পুস্তমডি পাড়ার বাসিন্দা আনন্দ মাহাত, বারুনী মাহাত বলেন, “কাছাকাছি এক কিমি-র মধ্যে কোথাও নলকূপ বা কুয়া নেই। পঞ্চায়েত, ব্লকে বার বার জানিয়েও পাড়াতে নলকূপ বসেনি।
কুদাগাড়া গ্রামের সুবল মাঝি ক্ষোভের সুরে জানান, “বাড়ির কাজ ছেড়ে দিয়ে এক কিমি দূরে থাকা নলকূপ থেকে সাইকেলে করে পানীয় জল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। দিনের অর্ধেক সময় চলে যাচ্ছে জল আনতে।”

বামুনডিহা পাম্প হাউসের এক কর্মী জানান, “জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় নদীতে থাকা পাম্পগুলোতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। জলে পাম্পগুলো হেলে পড়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগের তারও ছিঁড়ে পড়েছে। সমস্ত বিষয়টি জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরকে জানানো হয়েছে।”

তবে ফি বছর এই প্রকল্পে বর্ষা এলেই পাম্প বিকল হয়ে পড়ায় দপ্তরের কাজকর্ম নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। জুরাডি গ্রামের সুনীল গোপ, কুদাগাড়া গ্রামের রমেশ মাঝি জানান, “২০২১ সাল থেকে পর পর চার বছর এই প্রকল্পে বর্ষা এলেই জল পরিষেবা বন্ধ হয়ে পড়েছে। এই বছরেও তার কোনো পরিবর্তন হলো না । অথচ আমরা দেখি সারা বছর ধরেই এই প্রকল্পে কাজ চলে। ফি বছর বর্ষা এলে অবস্থার পরিবর্তন হয় না।” তাদের আরোও প্রশ্ন, “এই কংসাবতী নদী ঘাটেই রয়েছে সিন্দরী চাষমোড় জল প্রকল্প। সেই প্রকল্পে তো সমস্যা দেখা দেয় না।”

আড়শা ব্লকের বিডিও গোপাল সরকার জানান, “বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। সমস্যাটি সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানানো হয়েছে। তারা জানিয়েছেন নদীতে জল না কমায় কাজ করা যাচ্ছে না । জল কমলেই দ্রুত মেরামতের কাজ করা হবে।”

সব মিলিয়ে জল না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার বাসিন্দারা। ভরা বর্ষাতেও পানীয় জলের হাহাকার দেখা দিয়েছে গ্রামগুলোতে । এখন দেখার, সমস্যার সমাধান কত দিনে হয়।

Post Comment