insta logo
Loading ...
×

বিঘ্নেশ্বর প্রয়াণে কার্যত অভিভাবকহীন বরাবাজার

বিঘ্নেশ্বর প্রয়াণে কার্যত অভিভাবকহীন বরাবাজার

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরাবাজার:

বরাবাজারে সামাজিক পরিমণ্ডলে এক শূন্যতা তৈরি হলো । বিঘ্নেশ্বর সিংহ মোদকের প্রয়াণে এলাকার দৈনন্দিন জীবনের এক পরিচিত ছন্দ থেমে গেল। ৯১ বছর বয়সে তার জীবনাবসানে বরাবাজার আজ একজন অভিভাবকহীন।
প্রতিদিন ভোরবেলা মন্দিরে প্রণাম, এরপর নিয়মিত প্রাতঃভ্রমণ, এই ছিল তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অভ্যাস। বার্ধক্যজনিত শারীরিক সমস্যা সত্ত্বেও শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধে কোনো শৈথিল্য দেখা যায়নি তার জীবনে। শ্রী শ্রী রাধা বৃন্দাবন চাঁদ জিউর মন্দির সংস্কারে তার দীর্ঘ ২৬ বছরের নীরব প্রচেষ্টা আজও এলাকার মানুষের মুখে মুখে। এক টাকা করে চাঁদা সংগ্রহ করে মন্দির সংস্কারের যে উদ্যোগ, তা তাঁর সমাজভাবনারই প্রতিফলন।শিক্ষাক্ষেত্রের বাইরে সমাজসংগঠক হিসেবেও তিনি ছিলেন সমান সক্রিয়। ব্রতচারী সোসাইটির সভাপতি, ‘সব পেয়েছির আসর’-এর দীর্ঘদিনের কর্ণধার এবং বরাভূম পাবলিক উৎসব কমিটির সম্পাদক হিসেবে শেষদিন পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব সামলেছেন নিষ্ঠার সঙ্গে। এলাকার যেকোনো সামাজিক বা সাংস্কৃতিক আয়োজনে তার উপস্থিতি ছিল স্বাভাবিক দৃশ্য।
তার চলে যাওয়ায় যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা শুধুমাত্র একটি পরিবারের নয়, তা ছড়িয়ে পড়েছে বিদ্যালয় চত্বর, বাজারপাড়া ও সামাজিক পরিসরের নানা স্তরে। প্রশাসন, শিক্ষা, পেশাগত জগৎ, দেশ ও দেশের বাইরেও কর্মরত তার ছাত্রছাত্রীরা স্মৃতিচারণায় জানাচ্ছেন, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে তার পরামর্শ ও দৃষ্টিভঙ্গি তাদের পথ দেখিয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেছেন তিন পুত্র, দুই কন্যা, পুত্রবধূ, এক জামাতা এবং পরবর্তী প্রজন্মের একাধিক সদস্য। তার প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন এলাকার বিশিষ্ট নাগরিক, সমাজকর্মী, শিক্ষক মহল ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা।
শিক্ষাক্ষেত্রে তার পথচলা শুরু হয় বরাবাজার উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে। সেখানে শিক্ষকতা করার সময় তিনি একাধিক প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাজীবনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৬৪ সালের ব্যাচ থেকে শুরু করে পরবর্তী বহু বছরের ছাত্রছাত্রীরা তার প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে শিক্ষালাভের সুযোগ পেয়েছেন।
বিদ্যালয়ের চার দেওয়ালের মধ্যেই তার ভূমিকা সীমাবদ্ধ ছিল না। স্থানীয় বাজার, সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা দৈনন্দিন চলার পথে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল স্বাভাবিক ও নিবিড়। শিক্ষকতার পাশাপাশি সমাজজীবনের সঙ্গেও তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।তিনি এমন এক সময়ে শিক্ষকতা করেছেন, যখন শ্রেণিকক্ষই ছিল চরিত্র গঠনের প্রধান ক্ষেত্র। পাঠ্যসূচির বাইরে জীবনবোধ, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার শিক্ষা দেওয়াকেই তিনি গুরুত্ব দিতেন—এমনটাই জানাচ্ছেন তার প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা।
আজ এমন একজন মানুষকে হারাল, যাঁর পরিচিতি কোনও পদ বা প্রচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তার কাজ, আচরণ ও দীর্ঘদিনের অবদানই ছিল তার পরিচয়। মানুষটি চলে গেলেও, শিক্ষাঙ্গন ও সমাজে তার রেখে যাওয়া ছাপ বহুদিন ধরে অনুভূত হবে।

Post Comment