সুজয় দত্ত, পুরুলিয়া:
উত্তুরে হাওয়ায় ভর দিয়ে হেমন্তের পুরুলিয়া দেখল শীতের ট্রেলার। শনিবার পুরুলিয়া জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া দপ্তর বলছে জেলায় এখনও পর্যন্ত এটিই এই মরশুমের শীতলতম দিন। আবহাওয়া বিজ্ঞান বলছে বাতাসে উষ্ণতা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেই তাকে শীত আখ্যা দেওয়া হয়।

নভেম্বরের শুর থেকে বাতাসের ঝাপটায় হালকা কাঁপন লাগছিল শরীরে। ঝাড়খন্ড সীমান্তের এই প্রান্তিক জেলা এবছরের ৪ নভেম্বর কুয়াশার চাদরে ঢেকে গিয়েছিল। আর আকাশ পরিষ্কার না থাকলে মালুম হবে না শৈত্য। শুক্রবার সকাল থেকেই আকাশ পরিস্কার হয়ে যায়। আর টের পাওয়া যায় হাওয়ার কাঁপন। শুক্রবার পুরুলিয়ার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবারও আকাশ ছিল পরিস্কার। সকাল থেকেই সুড়সুড়ি দিতে আরম্ভ করেছিল উত্তুরে হাওয়া। রোদের তেজ আর চামড়াকে পুড়িয়ে দিচ্ছিল না। বাংলার পশ্চিমপ্রান্তের এই জেলায় প্রতিবছর জাঁকিয়ে শীত পড়ে। শীতে রূপসী বাংলা পুরুলিয়ায় নামে পর্যটকদের ঢল। পূর্বের বড়ন্তি থেকে পশ্চিমে অযোধ্যা, পশ্চিমে মুরগুমা থেকে দক্ষিণে দুয়ারসিনি সেজে ওঠে শীতের রুক্ষতায়। শুধু সৌন্দর্য নয়, সারা বছর কলকাতার প্যাচপেচে গরমে ক্লান্ত মানুষ শুধু শীত উপভোগ করতে এখানে আসেন। কোন কোন দিন দার্জিলিং গ্যাংটককেও হার মানিয়ে দেয় পুরুলিয়ার ঠান্ডা। ৫-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তো বটেই, কোন কোন দিন ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসও হয়ে গিয়েছে এ জেলার তাপমাত্রা। পোয়াবারো শীত বিলাসী পর্যটকদের। উইকেন্ড-এ এই শীতের শুরুয়াত পর্যটকদের লটারি পাইয়ে দিয়েছে যেন। অযোধ্যা পাহাড়ের পর্যটনস্থলগুলিতে দেদার ভিড় ঘোষণা করছিল সে কথাই। একই ছবি গড়পঞ্চকোট, বড়ন্তি, জয়চন্ডী পাহাড়, দুয়ারসিনিতে।
পুরুলিয়া জেলাতে ছ-ঋতুতে ছ-টা আলাদা আলাদা রূপ। তবে শীতের মুগ্ধতা একেবারে আলাদা। শীতের আগেই শীতের আগমন বার্তা নিয়ে তিব্বতি উদ্বাস্তুরা চলে আসেন পুরুলিয়া। সাজিয়ে বসেন তাদের শীত পোষাকের পশরা। আসেন ভিন জেলা থেকে শিউলিরা। জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে খেজুর গাছ লিজ নিয়ে নলেন গুড় বানানো শুরু করেন তাঁরা।
লেপ নয়, তবে কম্বল বা মোটা চাদর রাখতে হচ্ছে ফ্যান বন্ধ করেও।ময়েশ্চারাইজার না মাখলে খড়ি ফুটছে হাতে-পায়ে। উত্তুরে হাওয়ায় ঠোঁট ফাটতে শুরু করেছে। শীতের এই আগমন বার্তায় খুশি হোটেল মালিকরা। তাদের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, শুধু উইক এন্ড নয়, অন্যান্য দিনেও পর্যটকদের বুকিং আসছে। পুরুলিয়ার কটেজ, রিসর্ট, পর্যটকআবাসগুলিতে পর্যটকরা এসে শুরু হয়ে দিয়েছেন ক্যাম্প ফায়ার।
কবি ভাস্কর চক্রবর্তীর কাছে ঋণ করে তারা যেন বলে উঠছেন, ‘শীতকাল চলে এসেছে সুপর্ণা!’











Post Comment