insta logo
Loading ...
×

ঝাড়খণ্ডে কেন উপেক্ষিত বাংলা? বিডিওদের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি

ঝাড়খণ্ডে কেন উপেক্ষিত বাংলা? বিডিওদের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া ;

রাজ্যের প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ বাংলাভাষী। অথচ উপেক্ষিত দেশে স্বীকৃত ক্লাসিকাল ল্যাঙ্গুয়েজ বাংলা। উপেক্ষিত থেকে গেছে বাংলা আকাদেমি গড়ার কাজ। ঝাড়খণ্ডে প্রশাসনের দোরগোড়ায় সরাসরি চাপ তৈরি করতে মাঠে নামল ঝাড়খণ্ড বঙ্গভাষী উন্নয়ন সমিতি। রাজ্যের বিভিন্ন ব্লকে একযোগে বিডিওদের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি পাঠানোর কর্মসূচি কার্যত সরকারের প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা, দাবি না মানলে আন্দোলন আরও বড় হবে। ইতিমধ্যেই পূর্ব সিংভূম জেলার একাধিক ব্লকে এই কর্মসূচি জোরদারভাবে পালন করা হয়েছে। আগামী ১৭ এপ্রিল সারাইকেল্লা-খরসওয়াতেও একইভাবে কর্মসূচি নেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনের দাবি, এই উদ্যোগ শুধু একটি দাবি পেশ নয়, বরং দীর্ঘদিনের অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ।

এই আন্দোলনের মাধ্যমে মূলত প্রশাসনিক স্তরে অবহেলার বিষয়টিকে সামনে আনা হয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, রাজ্যের বড় অংশের মানুষের বাস্তব চাহিদা উপেক্ষা করা হচ্ছে, যার ফলে শিক্ষাব্যবস্থা থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক পরিসর সব ক্ষেত্রেই সমস্যা বাড়ছে। তাই ব্লক স্তর থেকে চাপ সৃষ্টি করে সরাসরি সরকারের নজর কাড়ার কৌশল নিয়েছে তারা। এর আগে সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঝাড়খণ্ডের ২৪টি জেলার মধ্যে অন্তত ১৬টি জেলায় বাংলাভাষী মানুষের বসবাস বেশি হলেও শিক্ষা ও প্রশাসনে বাংলা ভাষার ব্যবহার অত্যন্ত সীমিত। পূর্ব সিংভূম জেলার মুসাবনি, ঘাটশিলা, চাকুলিয়া, পটমদা, বড়াম ও জামশেদপুর-সহ সব ব্লকে আজ স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো দাবিপত্রে একাধিক বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে অবিলম্বে একটি বাংলা আকাদেমি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, অবিভক্ত বিহারে ১৯৮৬ সালে বাংলা আকাদেমি তৈরি হলেও আলাদা রাজ্য হওয়ার ২৫ বছর পরেও ঝাড়খণ্ডে সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি বাংলা মাধ্যম স্কুলগুলিতে শিক্ষক ও পাঠ্যপুস্তকের অভাবের কারণে পড়াশোনা প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালে ভারত সরকার বাংলাকে শাস্ত্রীয় ভাষার মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে বলা হয়েছে, এত গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি পাওয়ার পরও রাজ্য সরকারের উদাসীনতা হতাশাজনক। সংগঠনের দাবি, প্রায় ৪২ শতাংশ বাংলাভাষী মানুষের শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।
সমিতির নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে, যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে এই আন্দোলন আরও বৃহত্তর আকার নেবে।

Post Comment