insta logo
Loading ...
×

“কেন অসম্মান হিন্দু দেবদেবীর? চাইতে হবে ক্ষমা!” জয়পুর বিধানসভার চেক্যায় ব্যাপক বিক্ষোভে অজিত প্রসাদ মাহাতো

“কেন অসম্মান হিন্দু দেবদেবীর? চাইতে হবে ক্ষমা!” জয়পুর বিধানসভার চেক্যায় ব্যাপক বিক্ষোভে অজিত প্রসাদ মাহাতো

নিজস্ব প্রতিনিধি , পুরুলিয়া:

আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতো বিক্ষোভের মুখে পড়লেন পুরুলিয়ার জয়পুর বিধানসভার ঝালদা দু’নম্বর ব্লকের চেক্যা গ্রামে। মঙ্গলবার গ্রামে একটি বৈঠক করতে গিয়ে প্রায় দেড়শো গ্রামবাসীর তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন একটি শিব মন্দিরের সামনে গ্রামীণ বৈঠকের ডাক দেন অজিত বাবু। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল কুড়মি জনজাতির গুণীজন ও প্রয়াত বীর দিশম্বর মাহাতোর মূর্তি স্থাপন নিয়ে আলোচনা।

প্রসঙ্গত, এই জয়পুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই তাঁর ছেলে বিশ্বজিৎ মাহাতো বিজেপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। সেই সূত্রে এলাকায় গেরুয়া শিবিরের অন্দরে ক্ষোভ আগে থেকেই ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের।

বৈঠক চলাকালীনই গ্রামবাসীরা তাঁকে ঘিরে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলেন। অভিযোগ, অতীতে হিন্দু দেবদেবী নিয়ে কটূক্তি করার বিষয়টি সামনে এনে তাঁকে জবাবদিহি করতে বলা হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, কাছেই দুর্গা ও শিব মন্দির থাকায় সেখানে গিয়ে প্রণাম করে ক্ষমা চাইতে হবে। কিন্তু অজিত বাবু পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, কেন তিনি ক্ষমা চাইবেন? যে ভিডিও ঘিরে প্রশ্ন উঠছে, তার বার্তা কুড়মি জনজাতির জন্য দেওয়া। উপরন্তু ওই ভিডিওটি আংশিক।এর পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

আরও এক পর্যায়ে তাঁর ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। উত্তরে তিনি ‘সারনা’ ধর্মের অনুসারী বলে জানান। এতে ক্ষোভ আরও বাড়ে। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, অন্য ধর্ম সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য কেন করা হবে, তার জবাব চাই।

পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শেষ পর্যন্ত সঙ্গীদের নিয়ে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হন অজিতপ্রসাদ মাহাতো। জানা গিয়েছে, তাঁর সঙ্গে সে সময় দুটি গাড়ি ও মোটরবাইক মিলিয়ে প্রায় ১৫ জন ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরেই জয়পুর বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে কুড়মি জনজাতি ও কুড়মি জনজাতির নিকট বন্ধু সম্প্রদায় (হিতমিতান)-এর মধ্যে প্রচার চালাচ্ছেন তিনি। এই ঘটনায় ফের অস্বস্তি বাড়ল পদ্ম শিবিরে।

Post Comment