insta logo
Loading ...
×

কেন হাতি পিষে মারল বাঘমুণ্ডির বৃদ্ধকে? তদন্তে উঠে এলো মারাত্মক অভিযোগ

কেন হাতি পিষে মারল বাঘমুণ্ডির বৃদ্ধকে? তদন্তে উঠে এলো মারাত্মক অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

হাতি নিয়ন্ত্রণে কার্যত কোনও সহযোগিতা করছে না ঝাড়খণ্ড। উল্টে সে রাজ্যে হাতির দিকে আগুনের গোলা ছোড়া হচ্ছে বলেই অভিযোগ। আর তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলায় ঢুকে এক বৃদ্ধকে পিষে মারল ঝাড়খণ্ডের দলছুট বুনো হাতি। এই গুরুতর অভিযোগ তুলে ঝাড়খণ্ড থেকে আসা হাতির হামলা রুখতে ওই রাজ্যের সহযোগিতা চেয়ে অরণ্য ভবনের শীর্ষ কর্তাদের চিঠি দিল পুরুলিয়া বনবিভাগ। ঠিক এমন সময়েই শুরু হয়ে গেলো উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। ফলে হাতির আতঙ্কের মধ্যেই পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঘিরে বাড়তি সতর্কতায় বনদপ্তর।

গত সোমবার পুরুলিয়া বন বিভাগের বাঘমুন্ডি বনাঞ্চলের সারিডি গ্রামে ঝাড়খণ্ড থেকে আসা এক দলছুট দাঁতালের হামলায় মৃত্যু হয় এক বৃদ্ধের। বনদপ্তরের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, হাতিটির আচরণ ছিল সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক। পুরুলিয়া বনবিভাগের ধারণা, ঝাড়খণ্ডেই হাতিটিকে উত্ত্যক্ত করা হয়েছিল। না হলে এমন হিংস্র আচরণ সম্ভব নয়। এর আগেও ঝাড়খণ্ড থেকে আসা হাতির দেহে বুলেটের চিহ্ন মিলেছে বলে অভিযোগ বনদপ্তরের।

এই প্রেক্ষিতেই রাজ্যের মুখ্য বনপাল (দক্ষিণ-পশ্চিম চক্র) বাসবরাজ এস. হলেইয়াচি, প্রধান মুখ্য বনপাল (বন্যপ্রাণ) রাজেশ কুমার এবং প্রধান মুখ্য বনপাল (সমগ্র বনবল শীর্ষ) সন্দীপ সুন্দ্রিয়ালকে চিঠি দেয় পুরুলিয়া বন বিভাগ। চিঠির প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে পুরুলিয়ার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকেও। চিঠিতে স্পষ্ট অভিযোগ, বুনো হাতি মোকাবিলায় আন্তঃরাজ্য সমন্বয়ের ঘাটতির কারণেই বারবার এমন বিপদ ঘটছে। চলতি বছরেই পুরুলিয়া বনবিভাগ এলাকায় হাতির হামলায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে গেলো উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। সাম্প্রতিক মৃত্যুর ঘটনার জেরে মাধ্যমিকের থেকেও বেশি সতর্ক বনদপ্তর। পুরুলিয়া বনবিভাগ ও কংসাবতী দক্ষিণ বনবিভাগ মিলিয়ে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে নেওয়া হয়েছে একাধিক ব্যবস্থা। পুরুলিয়া ডিভিশন ছাড়াও ঝালদা, অযোধ্যা ও বাঘমুন্ডি বনাঞ্চলে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। বন্যপ্রাণ করিডর এলাকায় বসানো হয়েছে চেকপোস্ট ও ড্রপ গেট।

পুরুলিয়া বনবিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, উচ্চমাধ্যমিকের সময় মোট ১৫০ জন বনকর্মী নজরদারিতে থাকবেন। কংসাবতী দক্ষিণ বনবিভাগে মাধ্যমিকের মতোই ৫৩ জন বনকর্মী এই দায়িত্ব সামলাবেন। পুরুলিয়া বন বিভাগের আটটি বনাঞ্চলে একজন করে বিট অফিসার কুইক রেসপন্স টিম নিয়ে উপদ্রুত এলাকায় হাজির থাকবেন। হাতি ও বন্যপ্রাণ উপদ্রুত এলাকায় রয়েছে মোট ১৪টি পরীক্ষা কেন্দ্র। পরীক্ষার্থীদের জন্য ২০টি গাড়ি, ১০টি ড্রপ গেট ও একাধিক চেকপোস্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কংসাবতী দক্ষিণ বনবিভাগে থাকবে ৪টি ড্রপ গেট, প্রায় ২০টি বাস ও মোটরবাইক।

ডিএফও অঞ্জন গুহ বলেন, “আমাদের জেলায় রেসিডেন্ট হাতির পাশাপাশি ঝাড়খণ্ড থেকে নিয়মিত হাতির দল আসে। ঝাড়খণ্ডের কাছ থেকে আগাম তথ্য বা সঠিক সমন্বয় না পেলে সমস্যায় পড়তে হয়। সেই কারণেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

Post Comment