insta logo
Loading ...
×

কে ধরবে কুকুর, কে ফোটাবে সুঁই, কে জোগাবে টাকা? সুপ্রিম।নির্দেশে প্রশ্নে প্রশ্নে জেরবার সরকারি কর্মীরা

কে ধরবে কুকুর, কে ফোটাবে সুঁই, কে জোগাবে টাকা? সুপ্রিম।নির্দেশে প্রশ্নে প্রশ্নে জেরবার সরকারি কর্মীরা

সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সরকারি প্রতিষ্ঠান চত্বর থেকে বেওয়ারিশ কুকুর অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে জেলায়। স্কুল, হাসপাতাল, স্পোর্টস কমপ্লেক্স, বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশন সব সরকারি ক্যাম্পাস থেকেই পথকুকুর সরাতে হবে বলে নির্দেশ এসেছে। সেই নির্দেশ মানতে গিয়ে কার্যত হিমশিম খাচ্ছে জেলা প্রশাসন, বিশেষ করে ভোটের মরসুমে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২ এপ্রিল মানেকা গান্ধীর একটি চিঠির ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা অভিযান বিশেষ করে দুপুরের পর স্কুল চত্বরে পথকুকুরদের খাবার দেওয়ার বিষয়ে অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু ৭ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। এতদিন যে কুকুরদের নিয়মিত খাবার দেওয়া হচ্ছিল, এখন তাদেরই সরানোর দায়িত্ব পড়েছে প্রশাসনের উপর। ফলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে কুকুরদের মধ্যেও।

সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে কুকুরের সংখ্যা গণনা শুরু হয়েছে। যাতে একই কুকুর দু’বার গণনায় না আসে, তার জন্য মোবাইল ক্যামেরায় ছবি তুলে নথিভুক্ত করা হচ্ছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনিক ভবনে এ বিষয়ে বৈঠকও হয়েছে।
জানা গিয়েছে, দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল-সহ স্বাস্থ্য দপ্তরের বিভিন্ন কেন্দ্রে মোট ২৮৬টি কুকুরের হিসাব মিলেছে। তবে অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও অসম্পূর্ণ।

এ প্রসঙ্গে পুরুলিয়ার সিএমওএইচ ডাঃ অশোক বিশ্বাস বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা সমস্ত স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান থেকে বেওয়ারিশ কুকুর সরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছি। ইতিমধ্যে কুকুরের সংখ্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। টিকাকরণ ও বন্ধ্যাত্বকরণের জন্য স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির বিষয়েও পুরসভাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত বিস্তারিত রিপোর্ট রাজ্য প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে”।
কুকুর ধরার কাজ, টিকাকরণ ও বন্ধ্যাত্বকরণের জন্য দুই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহর এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির দায়িত্ব পড়েছে পুরসভাগুলির উপর। পুরুলিয়ায় দুটি এবং রঘুনাথপুর ও ঝালদায় একটি করে আশ্রয়স্থল চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা—যেমন সীমানা প্রাচীর নির্মাণ বা স্থায়ী নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ এখনও বাস্তবায়নের পথে অনেকটাই পিছিয়ে। প্রশাসনের একাংশের মতে, শহর এলাকায় কাজ কিছুটা এগোলেও ব্লক স্তরে এখনও গতি আসেনি। একদিকে ভোটের চাপ, অন্যদিকে সুপ্রিম নির্দেশ দু’য়ের মাঝে কার্যত বেকায়দায় সরকারি কর্মীরা।

Post Comment