সুজয় দত্ত, পুরুলিয়া:
ক্যালেন্ডারে ফেব্রুয়ারি ১১। সামনে ১৪ ফেব্রুয়ারি—ভ্যালেন্টাইন্স ডে। তার আগেই বসন্তের মোলায়েম হাওয়ায় প্রেমময় হয়ে উঠেছে পুরুলিয়ার আবহাওয়া। কৃষি দপ্তরের রিপোর্ট বলছে, মঙ্গলবার জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন ১০.৫ ডিগ্রি। বৃষ্টির দেখা নেই।
সারাদিন রোদের ঝলকানি থাকলেও তাপমাত্রা অসহনীয় নয়। বরং বিকেল গড়াতেই হাওয়ায় লাগে হালকা শীতের পরশ। সন্ধেবেলা আকাশ পরিষ্কার, বাতাসে মৃদু ঠান্ডা—মাঠে, পার্কে, জলাশয়ের ধারে ভিড় বাড়ছে তরুণ-তরুণীদের। শীত বিদায়ের মুখে বসন্তের এই আবহ যেন নিজেই এক নীরব প্রস্তাব।
১৪ ফেব্রুয়ারির ইতিহাসও কম রোমাঞ্চকর নয়। তৃতীয় শতকে রোমান সম্রাট ক্লডিয়াস দ্বিতীয় সৈন্যদের বিয়ে নিষিদ্ধ করেছিলেন। মনে করা হত, অবিবাহিত পুরুষই নাকি ভালো যোদ্ধা। সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গোপনে প্রেমিক-প্রেমিকাদের বিয়ে দিতেন সেন্ট ভ্যালেন্টাইন। শেষ পর্যন্ত প্রাণ দিতে হয় তাঁকে। তাঁর স্মৃতিতেই ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইন্স ডে’ হিসেবে পালিত হয়—ভালবাসার দিন হিসেবে।
সময়ের সঙ্গে পাল্টেছে উদ্যাপনের ধরন। চিঠি, গোলাপ, উপহার—সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে এখন এক উৎসব। পুরুলিয়াতেও তার ছোঁয়া স্পষ্ট। বাজারে লাল গোলাপের চাহিদা বাড়ছে, উপহার সামগ্রীর দোকানে ব্যস্ততা। তবে এ বছরের আসল উপহার যেন প্রকৃতির কাছ থেকেই—রুক্ষ জেলার বুকেও নরম, প্রেমময় বসন্তের আবহ।
দিনে ২৯ ডিগ্রির উষ্ণতা, রাতে ১০ ডিগ্রির কাছাকাছি পারদ—এই ওঠানামার মাঝেই পুরুলিয়ার বাতাসে যেন ভেসে বেড়াচ্ছে এক অদৃশ্য বার্তা: শীতের কঠোরতা পেরিয়ে, এখন ভালবাসার ঋতু।



Post Comment