নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া :
পুরুলিয়া জেলায় পূর্বাভাস অনুযায়ী রাতের তাপমাত্রা প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমেছে। তবে এই পতন শীতপ্রেমীদের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করতে পারেনি। কারণ, জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে দাঁড়িয়ে জেলার আবহাওয়ায় আর সেই চেনা কনকনে কামড় নেই। দিনের রোদে শীত কার্যত কোণঠাসা।
কৃষি দপ্তরের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী ৩০ জানুয়ারি পুরুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরদিন রাতে তা নেমে আসে প্রায় দু’ডিগ্রি। যদিও মাসের গোড়ায় যে শৈত্যপ্রবাহ জেলার উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছিল, তার সঙ্গে এই ঠান্ডার তুলনা চলে না। জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে পুরুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছিল ৪ ডিগ্রি বা তার কাছাকাছি। ভেঙেছিল গত দুই দশকের রেকর্ড। কোথাও কোথাও দেখা গিয়েছিল গ্রাউন্ড ফ্রস্টও।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে ঠান্ডা হাওয়ার প্রবাহ দুর্বল। একের পর এক পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ঢুকে পড়ায় উত্তর ভারতের পারদ যেমন বাড়ছে, তেমনই তার প্রভাব পড়ছে দক্ষিণবঙ্গেও। সেই সঙ্গে লাক্ষাদ্বীপ ও সংলগ্ন আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্ত দক্ষিণ দিক থেকে উষ্ণ ও আর্দ্র হাওয়া টেনে আনছে। ফলে রাতের তাপমাত্রা সাময়িক নামলেও শীতের দাপট আর জাঁকিয়ে বসতে পারছে না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, “ভোরে হালকা ঠান্ডা আছে ঠিকই, কিন্তু সূর্য উঠলেই সব উধাও। জানুয়ারির শেষে এমন উষ্ণতা আগে খুব একটা দেখা যেত না।”
আবহাওয়া দপ্তরের ইঙ্গিত, জানুয়ারির বাকি দিনে বড়সড় কোনও শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা নেই। তবে মার্চ থেকেই শুকনো গরম পড়ার সম্ভাবনা তীব্র। এ বছর এল নিনোর প্রভাব গ্রীষ্মকালকে দীর্ঘ করতে পারে।


Post Comment