নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া :
ধীরে ধীরে বিদায় নিচ্ছে শীত। টানা কয়েক দিনের হাড়কাঁপানো ঠান্ডার পর পুরুলিয়ায় কমতে শুরু করেছে শীতের আমেজ। জেলার লোককথাতেই আছে,‘বাসি ভাত খেয়ে শীত পালায়’। সেই প্রবাদই যেন মিলতে চলেছে বাস্তবে। সরস্বতী পুজোর পরদিন শীতলা ষষ্ঠীর সঙ্গে সঙ্গেই এ বছর শীতের পূর্ণচ্ছেদ ঘটতে পারে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে আবহাওয়ার গতি।
কৃষি দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৭ জানুয়ারি পুরুলিয়ায় বৃষ্টিপাত হয়নি। এ দিন জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছিল ৭.৪ ডিগ্রিতে। কয়েক দিন আগের তুলনায় রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ায় ভোরের কনকনে ঠান্ডা আর আগের মতো ধারালো নয় বলেই মনে করছেন জেলাবাসীর একাংশ।
আবহাওয়াবিদদের মতে, শীতের এই দুর্বল হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে একের পর এক পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। শনিবার উত্তর-পশ্চিম ভারতে একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ঢুকেছে। এর প্রভাবে উত্তুরে শুষ্ক হাওয়ার গতি ব্যাহত হচ্ছে। তার উপর আগামী ১৯ জানুয়ারি, সোমবার আরও একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ঢোকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উত্তর ও মধ্য ভারতের ঠান্ডা বাতাস দক্ষিণবঙ্গে জোরালো ভাবে পৌঁছতে পারছে না।
এ দিকে লাক্ষাদ্বীপ ও সংলগ্ন উত্তর-পূর্ব আরব সাগর এলাকায়, কেরল উপকূলের কাছে একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। তার জেরে দক্ষিণ দিক থেকে তুলনামূলক উষ্ণ ও জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস ঢুকছে। এই দুই বিপরীত আবহাওয়াগত ব্যবস্থার টানাপোড়েনেই শীতের দাপট ধীরে ধীরে কমছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
সব মিলিয়ে, জানুয়ারির মাঝামাঝি এসেই পুরুলিয়ায় শীতের তীব্রতা অনেকটাই ফিকে। তবে গ্রামবাংলার বিশ্বাস অনুযায়ী, সরস্বতী পুজো আর শীতলা ষষ্ঠীর ‘বাসি ভাত’-এর পরেই যে শীত সত্যিকারের বিদায় নেয়, সে অপেক্ষা এখন শুধু সময়ের।

Post Comment