নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া :
সব রেকর্ড ভেঙে গেল। গত ২০ বছরের মধ্যে শীতলতম দিনের সাক্ষী থাকল পুরুলিয়া। বৃহস্পতিবার কার্যত জমে গেল জেলা। কৃষি দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৮ জানুয়ারি পুরুলিয়ায় বৃষ্টিপাত হয়নি। এ দিন জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ৪ ডিগ্রিতে। গত দু’দশকে এত কম তাপমাত্রা এই সময়ে পুরুলিয়ায় কার্যত নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
শীতের দাপটের নিরিখে এ দিন রাজ্যে পুরুলিয়ার চেয়ে ঠান্ডা ছিল শুধু দার্জিলিং। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের হিসেব অনুযায়ী, পাহাড় শহরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ সমতলের পুরুলিয়া আর পাহাড়ের দার্জিলিংয়ের মধ্যে তাপমাত্রার ফারাক মাত্র শূন্য দশমিক ছ’ ডিগ্রি, যা শীতের তীব্রতার অস্বাভাবিক ছবিই তুলে ধরছে।
ভোররাত থেকেই হিমেল হাওয়া। গ্রামাঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে রাত কাটাতে দেখা গিয়েছে বহু মানুষকে। শহরেও শীতের দাপটে কার্যত থমকে যায় স্বাভাবিক জনজীবন। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, “এমন ঠান্ডা বহু বছর দেখিনি।”
এরই মধ্যে ‘ওয়েদার অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল’ নামে একটি আবহাওয়া সংক্রান্ত পেজের জারি করা বিশেষ সতর্কতা সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ৯ জানুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১০ জানুয়ারি শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক এলাকায় হাড়কাঁপানো কনকনে শীতের প্রবল দাপট দেখা যেতে পারে। শুক্রবার রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাত-পা জমিয়ে দেওয়া ঠান্ডা অনুভূত হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
ওই পোস্টে আরও দাবি করা হয়েছে, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত পড়তে চলা শীত ২০২৫–২৬ মরশুমের এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে কনকনে শীত হতে পারে। এমনকি কিছু কিছু এলাকায় কয়েক দশকের পুরনো রেকর্ডও ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে কিছুটা স্বস্তির খবরও রয়েছে। ওই সতর্কতায় জানানো হয়েছে, শনিবারের পর থেকে পরবর্তী দু’দিনে শীতের তীব্রতা কিছুটা হলেও কমতে পারে। তবু আপাতত পুরুলিয়া-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে শীত যে আরও কয়েক দিন দাঁত কামড়ে ধরেই রাখবে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।



Post Comment