নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া :
পারদ নামছেই। মঙ্গলবার রাতে কার্যত হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় কেঁপেছে পুরুলিয়া। কৃষি দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩০ ডিসেম্বর জেলায় বৃষ্টিপাত হয়নি। ওই দিনে পুরুলিয়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাতের দিকে পারদ নেমে এসেছে ৫.০ ডিগ্রিতে—চলতি শীতের মরশুমে সর্বনিম্ন। সামনে কেবল দার্জিলিং। মঙ্গলবার সেখানকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
কিন্তু এই তীব্র ঠান্ডার মধ্যেই ফের প্রশ্ন উঠছে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তথ্য নিয়ে। জেলাবাসীর একাংশের বক্তব্য, এমন কনকনে ঠান্ডায় যদি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি দেখানো হয়, তা হলে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের যন্ত্র ফের খারাপ হয়ে গেল কি না, সেই সন্দেহ স্বাভাবিক। কারণ সেই রিপোর্টে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস দেখানো হয়েছে। দমদম ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পুরুলিয়াও ১০ দমদমও ১০!—এমনটা যন্ত্র খারাপ না হলে হয় না, বলছেন অনেকেই।
উল্লেখ্য, কৃষি দপ্তরের তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্রটি রয়েছে হাতোয়াড়ার খোলা এলাকায়। চারদিক ফাঁকা থাকায় সেখানে রাতের তাপমাত্রা তুলনামূলক ভাবে আরও নীচে নামে। অন্যদিকে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের যন্ত্র বসানো রয়েছে পুরুলিয়া শহরের সার্কিট হাউসের পিছনের তুলনামূলক শহুরে পরিবেশে। অবস্থানগত এই পার্থক্যের কারণেই পারদের অঙ্কে কিছুটা ফারাক থাকে, বলে মত আবহাওয়াবিদদের।
তবে হিসেব যাই হোক, বাস্তবে পুরুলিয়ায় শীতের দাপট যে চরমে পৌঁছেছে, তা মানছেন সকলেই। জেলাবাসীর অভিজ্ঞতায়, এই মুহূর্তে শীতের ‘রিয়েল ফিল’ পৌঁছে গিয়েছে একেবারে নিচের দিকে।


Post Comment