নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া :
প্রয়াত হলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা অমিয় বন্দ্যোপাধ্যায়। বার্ধক্যজনিত কারণে দুর্গাপুরের এক বেসরকারি হাসপাতালে গত শনিবার পরলোকগমন করেন তিনি। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। পুরুলিয়া শহর সংলগ্ন দুলমি শ্মশানের বৈদ্যুতিক চুল্লিতে রবিবার তাঁর নশ্বর দেহ সৎকার করা হয়। রেখে গেলেন স্ত্রী, দুই পুত্র এবং পুরুলিয়ার শোকাহত নাট্যপ্রেমিদের।
পুরুলিয়ার সংস্কৃতি জগতে পোশাকি নাম ‘অমিয় বন্দ্যোপাধ্যায়’ এর থেকেও ষষ্ঠী দা নামে অধিক জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। পুরুলিয়া শহরের আমলাপাড়ায় তাঁর বাড়ি। একসময় গঠন করেছিলেন থিয়েটারের দল ‘আমলাপাড়া ইউনিট’। ছিলেন পুরুলিয়ার বিখ্যাত নাট্যদল ‘নাট্য নিকেতনে’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। অভিনেতা ও নাট্য পরিচালক জন্মেজয় চট্টোপাধ্যায় বলেন, “তিনি ছিলেন অসাধারণ একজন অভিনেতা। পুরুলিয়ার থিয়েটার এবং যাত্রা উভয় ক্ষেত্রেই সাফল্যের সঙ্গে অভিনয় করেছেন।

যে চরিত্রটি রূপদান করতেন সেই চরিত্রটি একটি বিশেষ মাত্রা পেত। তাঁর অভিনীত নাটক – বাঞ্ছারামের বাগান , রাম শ্যাম যদু , চাক ভাঙ্গা মধু , স্বরবর্ণ , মহাবিদ্যা , ঈশ্বর ফিরে যাও , নৈশ ভোজ , যোগীন যখন যজ্ঞেশ্বর , নতুন বৌ , ব্যাধি , ক্যানসার এবং আরো অনেক নাটকে নিজ প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। ১৯৮৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার আয়োজিত ১২৫বর্ষ রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে সারা বাঙলা রবীন্দ্রনাট্য প্রতিযোগিতায় পুরুলিয়া নাট্য নিকেতনের হয়ে “বৈকুন্ঠের খাতা” নাটকে “বৈকুন্ঠ” চরিত্রে সারা রাজ্যের মধ্যে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছিলেন।
বেগম আশমান তারা , বর্ণ পরিচয় , পাগলা গারদ , বাঁশের কেল্লা , ভক্ত রুইদাস প্রভৃতি যাত্রা পালাতেও অসাধারণ অভিনয়ের নিদর্শন রেখে গেছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। তাঁর প্রয়াণে নাট্যজগতে এক অপরিসীম শূন্যতার সৃষ্টি হলো।”
Post Comment