insta logo
Loading ...
×

অমিত শাহের হাত ধরে পদ্মে তৃণমূল নেত্রী! বাঘমুণ্ডির মেগা মঞ্চে প্রতিশ্রুতিতে কল্পতরু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অমিত শাহের হাত ধরে পদ্মে তৃণমূল নেত্রী! বাঘমুণ্ডির মেগা মঞ্চে প্রতিশ্রুতিতে কল্পতরু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঘমুন্ডি:

ভোটের মুখে জঙ্গলমহলের রাজনীতিতে ফের বড়সড় দলবদল। শাসকদলের টিকিট না পেয়ে এবার সটান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিলেন পুরুলিয়া জেলা মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রী মিনু বাউরি। এদিন বাঘমুণ্ডির কুশলডি ক্রিকেট মাঠে আয়োজিত অমিত শাহের জনসভা থেকেই তিনি পদ্ম-পতাকা হাতে তুলে নেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, মূলত তফশিলি জাতি অধ্যুষিত পাড়া বিধানসভা কেন্দ্রকে নজরে রেখেই মিনুকে দলে টেনে তফশিলি ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসানোর নিখুঁত ছক কষল গেরুয়া শিবির।

২০০৮ সালের জেলা পরিষদের নির্বাচনে জিতে সভাধিপতি হন সিপিএমের বিধায়ক বিলাসীবালা সহিস। পদত্যাগ করেন বিধায়ক পদ থেকে। ২০০৯ সালে পাড়া বিধানসভার উপনির্বাচনে সিপিএমের প্রতীকে জিতে বিধায়ক হওয়া মিনু রাজ্যে পালাবদলের পর ঘাসফুল শিবিরে এসেছিলেন। এমনকি জেলা মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রীও হন।কিন্তু এবার পাড়া থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হতে না পেরে চরম ক্ষুব্ধ এই নেত্রীর দলবদল। তাঁর কথায়, ” নেত্রীর প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, আইপ্যাক নামক সংস্থার জন্য তৃণমূলে থেকে মানুষের জন্য কোনও কাজ করা যায় না। ওখানে একেবারে দমবন্ধ করা পরিস্থিতি। তাই বাধ্য হয়েই বিজেপিতে এলাম।”

দলবদলের এই চমকের পাশাপাশি এদিনের হাই-ভোল্টেজ মঞ্চ থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ‘ভাইপো’ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন অমিত শাহ। তাঁর বিস্ফোরক তোপ, “গত ১৫ বছর ধরে মমতা দিদি রাজনীতি করছেন শুধুই নিজের ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী বানানোর জন্য”। অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতেও কড়া সুর চড়িয়ে শাহ বলেন, ঝাড়খণ্ড ও জঙ্গলমহলের ভূমির জমি দখল করে থাকা অনুপ্রবেশকারীদের পিসি-ভাইপোর সরকার নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে লালনপালন করছে। ক্ষমতায় এলে এই মাটিকে অনুপ্রবেশকারী-মুক্ত করার কড়া বার্তাও দেন তিনি।

তবে বিরোধীদের আক্রমণের পাশাপাশি জঙ্গলমহলের আবেগকে ছুঁতে এদিন শাহের সবচেয়ে বড় ‘মাস্টারস্ট্রোক’ ছিল কুড়মি ভোটব্যাঙ্কে শান দেওয়া। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা করেন, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়লে বাংলা ও ঝাড়খণ্ডের অন্যতম প্রধান ভাষা কুড়মালিকে সংবিধানের অষ্টম তফশিলের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

পাশাপাশি, জনসমর্থন টানতে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতির কল্পতরু হয়ে ওঠেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বেকার যুবক-যুবতীদের চাকরির ব্যবস্থা করা হবে এবং চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত মাসে ৩,০০০ টাকা করে বেকার ভাতা দেওয়া হবে। এছাড়াও, প্রতিটি মহিলাকে মাসে ৩,০০০ টাকা এবং বয়স্ক, বিধবা ও বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্নদের মাসে ২,০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। গর্ভবতী মায়েদের প্রসবকালীন ২১,০০০ টাকা অনুদান, সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩% সংরক্ষণ এবং মহিলাদের সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের মতো বড়সড় প্রতিশ্রুতি দিয়ে এদিন জঙ্গলমহলের ভোট-পারদ কার্যত চরমে পৌঁছে দিলেন অমিত শাহ।

Post Comment