নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঘমুন্ডি:
তৃণমূলের প্রথম শহিদ প্রধান সিং মুড়ার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে আয়োজিত শ্রদ্ধাঞ্জলিতে নাচগান ও মনোরঞ্জনমূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বাঘমুন্ডির বাড়েরিয়ায় মঙ্গলবার জেলা তৃণমূলের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মাল্যদান ও স্মৃতিচারণের পর মঞ্চে নাচগানসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। সেই ভিডিও সোশ্যাল মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ওঠে সমালোচনার ঝড়।
১৯৯৮ সালের ৯ ডিসেম্বর খুন হন তৃণমূল নেতা প্রধান সিং মুড়া। তার পর থেকেই দিনটিকে তৃণমূলের প্রথম শহীদ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে জেলা তৃণমূল। এ বছরও দলীয় নেতৃত্ব, বিধায়ক, কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন হয়। কিন্তু মাল্যদান পর্বের পরই যখন মঞ্চে শুরু হয় নাচগান ও অন্যান্য মনোরঞ্জনমূলক অনুষ্ঠান পরিবেশন, তখনই বিরোধীদের নিশানায় পড়ে শাসকদল।
জেলা বিজেপি সহসভাপতি গৌতম রায় বলেন, “একজন শহিদের মৃত্যুদিনকে তৃণমূল আনন্দ-উৎসবে পরিণত করেছে। এতে প্রধান সিং মুড়ার স্মৃতির অবমাননা হয়েছে। এটাই তৃণমূলের অধঃপতিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি।”
অন্যদিকে অভিযোগ উড়িয়ে তৃণমূলের বক্তব্য, স্থানীয় লোকসংস্কৃতিই এই জেলার পরিচয়। জেলা তৃণমূল যুব সভাপতি গৌরব সিং বলেন, “পুরুলিয়ার লোকসংস্কৃতি, নাচগান—এটাই আমাদের পরিচয়। বিজেপি এই জেলার সংস্কৃতি বোঝে না। তারা শুধু সমালোচনা করতে জানে। আমরা শ্রদ্ধা জানিয়েছি, এরপর স্থানীয় শিল্পীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়েছিল। সমালোচনা করে বিজেপিই জেলার সংস্কৃতিকে অপমান করছে।”
এই ঘটনা ঘিরে পুরুলিয়ার রাজনৈতিক মহলে উঠেছে নতুন প্রশ্ন—শহিদ স্মরণে কি শুধুই গাম্ভীর্য বজায় রাখা উচিত? নাকি লোকসংস্কৃতির মাধ্যমে সম্মান জানানোও গ্রহণযোগ্য? এই দ্বন্দ্বেই এখন সরগরম জেলার রাজনৈতিক অঙ্গণ।











Post Comment