insta logo
Loading ...
×

সমন্বিত মৎস্যচাষে আত্মনির্ভরতার দিশা, উপকৃত ৫১৮ জন আদিবাসী মহিলা

সমন্বিত মৎস্যচাষে আত্মনির্ভরতার দিশা, উপকৃত ৫১৮ জন আদিবাসী মহিলা

নিজস্ব প্রতিনিধি, মানবাজার:

তফসিলী উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় জলাশয়কে ঘিরে গড়ে উঠছে বিকল্প অর্থনীতির নতুন দিগন্ত। মাছ চাষ ও রঙিন মাছের উৎপাদনকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন নারীদের হাতে এসেছে নিয়মিত আয়, তেমনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতেও তৈরি হয়েছে বৈজ্ঞানিক সচেতনতার পরিবেশ। এই সমন্বিত উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে ব্যারাকপুরের সেন্ট্রাল ইনল্যান্ড ফিসারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে এবং মানবাজের গোবিন্দপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় গত দুই বছর ধরে চলা সমন্বিত মৎস্যচাষ প্রকল্প সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মডেল হিসেবে উঠে এসেছে।

প্রকল্পের আওতায় ৪৮২ বিঘা জলাশয় জুড়ে ১৬টি পুকুরে ৫১৮ জন তফসিলী উপজাতি মহিলা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করছেন। নিয়মিত প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত পরামর্শ এবং বাজার সংযোগ—এই তিন স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে উদ্যোগটি ধীরে ধীরে আত্মনির্ভরতার শক্ত ভিত গড়ে তুলেছে। শুধু খাদ্য মাছ নয়, ৩০ জন আদিবাসী মহিলা রঙিন অলংকারিক মাছের চাষে যুক্ত হয়ে বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করেছেন। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি এসেছে‌ একই সঙ্গে নারীদের সামাজিক মর্যাদাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ গত বছর সিফরির পক্ষ থেকে ১০টি এবং চলতি বছরে আরও ৩০টি সুদৃশ্য অ্যাকোয়ারিয়াম উপহার দেওয়া হয়। এলাকার ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে জলজ জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে আগ্রহ বাড়ানো এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চেনানোর লক্ষ্যে কলেজ, স্কুলসহ মোট ৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাতে এই উপহার তুলে দেওয়া হয় এক বিশেষ অনুষ্ঠানে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিফরির আধিকারিক লোকনাথ চক্রবর্তী ও শতরূপা ভৌমিক। সংস্থার ডিরেক্টর তথা বিশিষ্ট মৎস্য বিজ্ঞানী ড. বসন্ত দাস এবং প্রিন্সিপাল সায়েন্টিস্ট ড. অপর্ণা রায়ের উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানান গোবিন্দপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও জাতীয় শিক্ষক অমিতাভ মিশ্র।
অমিতাভ মিশ্র তাঁর বক্তব্যে বলেন, “এই প্রকল্প শুধু মাছ চাষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি একটি সামাজিক রূপান্তরের আন্দোলন। আমাদের এলাকার বহু তফসিলী উপজাতি মহিলা আজ নিজেদের উপার্জনে সংসারের হাল ধরেছেন। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ শিখে তাঁরা আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে জলজ সম্পদ ও পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে অ্যাকোয়ারিয়াম বিতরণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ।

Post Comment