নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
হেমন্তের শীতে দার্জিলিংকে টেক্কা দিয়েছে পুরুলিয়া। পলাশের সৌন্দর্য শান্তিনিকেতন ফেরত বাঙালিকে পুরুলিয়ামুখী করেছে। এরই মাঝে সুন্দরবন প্যাকেজও পুরুলিয়ার অ্যাকাউন্টে ঢুকিয়ে দিল জিনাত আর তার আশিক। আবার রয়্যাল বেঙ্গলের দর্শন পুরুলিয়ার বনে। এত ঘনঘন দেখা মিলছে বাঘের যেন মনে হচ্ছে পুরুলিয়া কোথায়, এ তো সুন্দরবনের কোন গ্রাম!
গাঁয়ের কালো পিচ রাস্তা দিয়ে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের হেঁটে যাওয়ার দৃশ্য দেখলেন বান্দোয়ান লাগোয়া মানবাজার ২ নং ব্লকের নেকড়ে গ্রামের এক যুবক। বছর ৩৫ এর ওই যুবক শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ নেকড়ে মোড় থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে মোটরবাইকের আলোতে বাঘকে হেঁটে যেতে দেখেন। প্রায় ১৫ ফুট দূরে বাঘ দেখে দিলীপ কুম্ভকার রীতিমত চমকে ওঠেন। তবুও স্নায়ু শিথিল হতে দেননি তিনি।মোটর বাইকের ব্রেক কষেন। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার পার হয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি এলাকার মানুষকে জানান। রাত তো তাতে কী! সঙ্গে সঙ্গে ভিড় জমে যায় নেকড়ের গ্রামের রাস্তায়। দেখা যায় বাঘের অসংখ্য পায়ের ছাপ।
খবর দেওয়া হয় বনদফতরে। এ বিষয়ে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে তারা মুখ খুলতে চাইছে না। নেকড়ে গ্রামের ব্যাঘ্র দর্শনকারী যুবক, পেশায় গাড়ি চালক দিলীপ কুম্ভকার বলেন, “শনিবার সন্ধ্যে সাড়ে সাতটার দিকে আমি নেকড়ে মোড় থেকে বাড়ি যাচ্ছিলাম । বাইকের হেডলাইটের আলোয় রাস্তায় দেখি বাঘটিকে। রাস্তা পার হচ্ছে সে। ঘাবড়ে গিয়েছিলাম প্রথমে। তারপর গাড়ির ব্রেক কষে দাঁড়াই। রাস্তা দিয়ে বাঘটি চলে যাওয়ার পর এলাকার মানুষজনকে খবর দিই।”

শুক্রবারই ঝাড়খণ্ডের দলমা থেকে ওই বাঘ আবার বান্দোয়ানের রাইকা পাহাড়ের ভাঁড়ারি জঙ্গলে প্রবেশ করে। শনিবার ওই ভাঁড়ারি থেকেই মানবাজার ২ নং ব্লক এলাকায় চলে আসে জিনাতের আশিক। রবিবার সকাল সকাল নেকড়ে ছাড়াও বড়কদম, লালডুংরি, কিস্টপুর, কুমিরাডি, হাতিরামগোড়া এলাকায় পাওয়া যায় বাঘের পায়ের ছাপ। তবে এলাকার মানুষজন সহ বনদফতর সূত্রে জানা গেছে প্রেমিকপ্রবর আর নেই মানবাজার ২ নং ব্লক এলাকায়। বান্দোয়ানের উদলবনি রাহামদা হয়ে আবার সে ভাঁড়ারি জঙ্গলে গিয়েছে। যাওয়ার পথেও দেখা গেছে বাঘের অজস্র পায়ের ছাপ।
মানবাজার ২ নং ব্লক এলাকার বাসিন্দা বিপ্লব মান্ডি বলেন, “নেকড়া এলাকার সরিষাবাড়ি জঙ্গলে বাঘের পায়ের ছাপ দেখি।” বান্দোয়ান থেকে মানবাজার ২। ওড়িশার সিমলিপাল ব্যাঘ্র প্রকল্পের বাঘিনী জিনাতও এভাবেই বান্দোয়ান থেকে এই মানবাজার ২ ব্লক এলাকাতেই এসেছিল। আর এখান থেকে মানবাজার ১ নং ব্লক এলাকা ছুঁয়ে বাঁকুড়ায় যাওয়ার পর ঘুমপাড়ানি গুলিতে কাবু হয়ে ধরা পড়ে সে। জিনাতকে এভাবে হন্যে হয়ে খুঁজছে আশিক বাঘ। জিনাত অন্বেষণে ঝাড়খন্ডের দলমা-ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি কাঁকড়াঝোড় সহ পুরুলিয়ার বান্দোয়ান – মানবাজার ২ এলাকা এই রয়্যালের টেরিটরি হয়ে গিয়েছে। বাঘটি পালামৌ থেকে এলেও ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটির কাছে এই বাঘের কোন রেকর্ড নেই। কারন শেষবার ২০২১-র ব্যাঘ্র গণনায় এই বাঘ নথিভুক্ত হয়নি।
তবে এই প্রথম নয়। চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি শুক্রবার বান্দোয়ানের জানিঝোড় গ্রামের বাসিন্দা যুধিষ্ঠির মাহাতো সন্ধ্যায় বান্দোয়ানের তালপাত থেকে নিজের বাড়ি জানিঝোড় যাওয়ার পথে নেকড়া গ্রামের কাছে বাঘের দেখা পেয়েছিলেন। তিনিও জানিয়েছিলেন একেবারে মুখোমুখি হয়েও বাঘ স্রেফ মুখ ঘুরিয়ে চলে গিয়েছিল।
Post Comment