insta logo
Loading ...
×

নেতৃত্বে আসুক বদল, দাবি উঠছে তৃণমূলের অন্দরে,পুরুলিয়ায় হারের রিপোর্ট জানালেন অভিষেক

নেতৃত্বে আসুক বদল, দাবি উঠছে তৃণমূলের অন্দরে,পুরুলিয়ায় হারের রিপোর্ট জানালেন অভিষেক

নিজস্ব প্রতিনিধি , পুরুলিয়া:

পুরুলিয়া লোকসভায় জিতে যেতো তৃণমূল। শহরাঞ্চলে খুব খারাপ ফল। পুরুলিয়া ও ঝালদায়
খারাপ ফলের জন্যই এই লোকসভায় হার। স্বয়ং তৃণমূলের যুবরাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিলেন হারের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। সব জেলার নেতৃত্বকে নিয়ে শনিবার ভার্চুয়াল বৈঠকে জানালেন নিজের পেশ করা রিপোর্টে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুরুলিয়ায় লোকসভায় পরাজয় নিয়েও কয়েকটি কথা বলেন। তাঁর কথার সূত্রেই দুই পুর শহরে দলীয় নেতৃত্বের মধ্যে বদলের দাবি উঠেছে। হারের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নিয়ে অভিষেক বলেন, “আমি মনে করি পুরুলিয়ার দু’-একটি বিধানসভায় যদি আমরা ভালো রেজাল্ট করতাম বিশেষ করে টাউন এলাকায় তাহলে আমরা পুরুলিয়া লোকসভায় জিততাম। পুরুলিয়া টাউন, ঝালদা টাউনের জন্যই আমরা হেরেছি।পুরুলিয়া বিধানসভায় ২৭৪ টি বুথ আছে। তার মধ্যে ১৬২টি বুথে হারের ব্যবধান ৫০-র বেশি।” তুলনামূলকভাবে ভালো ফল করেছে ঝাড়গ্রাম লোকসভার অধীনে থাকা বান্দোয়ান। তিনি বান্দোয়ানের বিধায়ক রাজীবলোচন সরেনকে এজন্য কৃতিত্বও দেন। এছাড়াও তুলনামূলকভাবে মানবাজার ১, মানবাজার ২ ব্লক, কাশিপুর, বলরামপুরে ভালো ফল হয়েছে বলে উল্লেখ করেন অভিষেক। মানবাজার এলাকার নেতৃত্বকে বাহবা জানান তিনি।

দলীয় সূত্রের খবর লোকসভা ভোটে পুরুলিয়া ও ঝালদা শহরে দলের মধ্যে হয়েছে অন্তর্ঘাত। এর আগে সেই প্রসঙ্গ তুলে ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে নেতৃত্ব বদলের কথা বলেছিলেন অভিষেক। শনিবার ভার্চুয়াল বৈঠকে অভিষেকের এই কথার পর ওই দুই শহর এলাকায় নেতৃত্ব বদল নিয়ে খানিকটা আশান্বিত কর্মীরা। এখনও কার্যত ছন্নছাড়া হয়ে রয়েছে পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল৷ যত নেতা, তত গোষ্ঠী, তত দ্বন্দ্ব। তৃণমূল স্তরের কর্মীরা চাইছেন, লোকসভা ভোটে যাঁরা অন্তর্ঘাত করেছেন তাদের শাস্তি দিক দল ।

অভিষেকের তোপ প্রসঙ্গে পুরুলিয়া শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি প্রদীপকুমার ডাগা বলেন, ” পুরুলিয়া লোকসভার হারের কারণের জন্য বারবার পুরুলিয়া এবং ঝালদা শহরের কথা বলা হচ্ছে। এটা আমার ব্যর্থতা। দলের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে আমি চাই আমাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক। এই ব্যর্থতা শুধু আমার নয়। পুর প্রশাসনের পদে থাকা পুরপ্রধানেরও। আমরা প্রচুর পরিশ্রম করেছিলাম। কিন্তু মানুষের মনের কথা বুঝতে পারিনি। “

পুরুলিয়ার পুরপ্রধান নবেন্দু মাহালি বলেন, ” এত উন্নয়ন রাজ্যের, এত উন্নয়ন পুরসভার। তারপরেও আমাদের হারতে হলো। এটা সত্যিই আমাদের ব্যর্থতা। “

ঝালদা শহর তৃণমূল সভাপতি চিরঞ্জীব চন্দ্র বলেন, ” পুরপ্রধান তাঁর নিজের ওয়ার্ডে কেন কম ভোট পেলেন? এই জবাব
তাঁকেই দিতে হবে। এই প্রশাসনিক নেতৃত্বের আমরা বদল চাই। “

ঝালদার পুরপ্রধান সুরেশ আগরওয়াল বলেন, ” আমরা পরিশ্রম করে হারের ব্যবধান কমিয়েছি। “

আর অঙ্ক কী বলছে?

লোকসভা নির্বাচনে পুরুলিয়া শহরে ১৮ হাজার ও ঝালদা শহরে ৭ হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। গ্রামীণ এলাকায় মেক আপ দিয়েও তৃণমূল হেরেছে ১৭ হাজারের কিছু বেশি ভোটে।

পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান হংসেশ্বর মাহাতো বলেন, “নেতৃত্বের বদল দরকার না হলে দলের ফল আরও খারাপ হবে।”

Post Comment