নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝালদা:
সকাল মানেই অনেকের কাছে গরম চায়ের সঙ্গে টাটকা খবরের কাগজ। কিন্তু অনলাইনের যুগে সেই অভ্যাসে ভাটা পড়েছে। মোবাইল ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতায় এখন খবর পড়ার ঝোঁক অনেকটাই ডিজিটাল মাধ্যমে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে খবরের কাগজের বিক্রিতে। জীবিকার সংকটে পড়েছেন পেপার বিক্রেতারা।
প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাস। মোবাইল ফোনের দাম কমেছে, গ্রামগঞ্জেও ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে গিয়েছে। ফাইভ-জি নেটওয়ার্কের প্রসারে অনলাইনে খবর পড়াই এখন অনেকের প্রথম পছন্দ। ফলে ক্রমশ কমছে ছাপা খবরের কাগজের চাহিদা।
পেপার বিক্রেতা গোপাল দত্ত জানান, “আগে নিয়মিত পাঠক থাকলেও এখন অনেকেই অনলাইনের দিকে ঝুঁকছেন। এতে বিক্রি ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছে”।
করোনা পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি আরও বদলেছে। লকডাউনের সময় দীর্ঘদিন গৃহবন্দী থাকায় মানুষের অভ্যাসে বড় পরিবর্তন আসে। সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া খবরেই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন অনেকেই। ফলে আগের তুলনায় এখন খবরের কাগজ বিক্রি অনেকটাই কমেছে।
আর এক পেপার বিক্রেতা সঞ্জিত দত্তের দাবি, “আগে যেখানে দিনে প্রায় ১০০০ থেকে ২০০০ কপি খবরের কাগজ বিক্রি হত, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২০০ কপিতে। নতুন প্রজন্মের কাছে কাগজের খবর প্রায় অচেনা হয়ে উঠেছে। মূলত গুটিকয়েক বয়স্ক মানুষই এখনও নিয়মিত খবরের কাগজ পড়ছেন”।
বর্তমানে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন পেপার বিক্রেতা রয়েছেন। সকলেই একই সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এই প্রবণতা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ছাপা খবরের কাগজের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।











Post Comment