insta logo
Loading ...
×

নারী দিবসে স্বচ্ছতার প্রতীক যে নারী

নারী দিবসে স্বচ্ছতার প্রতীক যে নারী

দেবীলাল মাহাত, আড়শা:

প্রতি বছর ঘটা করে পালিত হয় স্বচ্ছ ভারত অভিযান, মিশন নির্মল বাংলা অভিযান । চলে ঝাড়ু হাতে ছবি তোলার প্রতিযোগিতা। তখন সমস্ত রকম প্রচারের আড়ালে থেকে , নিঃশব্দে ঝাড়ু হাতে হাসপাতালের ঋন পরিশোধ করে চলছেন এক মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী। যাকে সকলেই চেনে ‘কাল্লাবতী’ নামে। কাল্লাবতী জানে না স্বচ্ছ ভারত অভিযান বা মিশন নির্মল বাংলা কী? তিনি যা জানেন তা হল পরিষ্কার রাখতে হবে হাসপাতাল। তবেই সুস্থ, স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে মানুষ। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আক্ষরিক অর্থেই উজ্জ্বল নক্ষত্র সেই নারীকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন ‘পুরুলিয়া মিররের’।
অযোধ্যা পাহাড়তলীর পাদদেশে অবস্থিত সিরকাবাদ ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। সময়টা ২০০৪ সাল। বাঘমুন্ডি ব্লকের ভুরসাবেড়ার বাসিন্দা কাল্লাবতী মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভিতরে ঘোরাঘুরি করতেন। তা দেখে এগিয়ে আসেন সেই সময়কার বি এম ও এইচ সহ স্বাস্থ্যকর্মীরা। মানবিকতার পরিচয় দেন তাঁরা। ভালো খাবার সহ ঔষধ দিয়ে তাকে সারিয়ে তোলেন। সেরে ওঠার পর নিজেই ঝাড়ু হাতে হাসপাতালের সাফাই এর কাজে নেমে পড়েন কাল্লাবতী। তারপর দুদশক পার। হাসপাতালকে পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন রেখেছেন তিনি। দিনরাত হাসপাতালের চারপাশ ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করেন । প্লাস্টিক, কাগজ হাসপাতাল চত্বরে পড়ে থাকতে দেখলেই ফেলে দেন নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে।কাল্লাবতীর জন্যেই হাসপাতাল ঝাঁ চকচকে। এই কাজ করে গেলেও প্রচারের আলো থেকে তিনি দুরে থাকেন। কাউকে ছবি তুলতেও দেন না। সিরকাবাদ গ্রামের বাসিন্দা তথা পেশায় শিক্ষক সলিল মাঝি জানান, “কাল্লাবতী যে কাজ করেন,তা প্রশংসার যোগ্য। অনেক দিন ধরেই কাল্লাবতী এখানে আছেন। দিন রাত হাতে ঝাড়ু, বালতি নিয়ে নিজে থেকেই হাসপাতালকে পরিষ্কার রাখেন। যা সকলের কাছেই শিক্ষনীয়।”

নারী দিবসের দিনে , আক্ষরিক অর্থেই তিনি মহীয়সী। স্বচ্ছতার অভিযানের মূর্ত প্রতীক কাল্লাবতী।

Post Comment