insta logo
Loading ...
×

বেতন বকেয়া, শহর যেন আস্তাকুঁড়

বেতন বকেয়া, শহর যেন আস্তাকুঁড়

নিজস্ব প্রতিনিধি , পুরুলিয়া:

বেতন বকেয়া এক মাস। ফলে ফের সাফাই কাজ বন্ধ করে দিলেন পুরুলিয়া পুরসভার অস্থায়ী কর্মীরা। আর তাতেই পুরুলিয়া শহর রূপ নিয়েছে ডাস্টবিনের। শহর জুড়ে জমছে আবর্জনার পাহাড়।

বুধবার থেকে কাজ বন্ধ করেছেন সাফাই বিভাগের ৯৭৫ জন অস্থায়ী কর্মী। তাঁদের একদিনের কর্মবিরতিতেই পুরুলিয়া শহরের নরক যন্ত্রণায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে পুরুলিয়া পুরসভা।

অন্যদিকে সাফাই কর্মীদের নিয়েও বিস্তর অভিযোগ জমা পড়েছে পুরসভায়। দিনে তাঁদের পারিশ্রমিক ১২০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত হলেও তাঁদের দৈনিক তিন ঘন্টা কাজ করার কথা। অভিযোগ, সাফাই বিভাগের অস্থায়ী কর্মচারীরা মাত্র এক ঘণ্টা কাজ করেই অন্যত্র কাজে যোগ দেন। কেউ ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত আছেন। সাফাই বিভাগের অনেক অস্থায়ী কর্মী নাকি নিয়মিত কাজে যোগ দেন না। অনেকে নাকি আসেনই না কাজে। ওঠে এমন অভিযোগও। পুরসভা আগেই অস্থায়ী কর্মীদের জানিয়েছিল, তাঁরা যদি দু’মাস বকেয়া বেতনে কাজ করতে না পারেন তাহলে তাঁরা পথ দেখতে পারেন। সেক্ষেত্রে একলপ্তে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হবে তাঁদের। প্রস্তাবে অস্থায়ী কর্মীরা সাড়া দেননি। সমস্যা মেটাতে আরেক প্রস্তাব ছিল পুরসভার। সাফাই কর্মীদেরকে একটি এজেন্সির অধীনে নিয়ে আসার কথা বলা হয়েছিল। এজেন্সির অধীনে থাকলে মিলতো বিভিন্ন সুবিধা।তাঁরা প্রভিডেন্ট ফান্ডও পেতেন। তবে সেক্ষেত্রে দৈনিক ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা কাজ করতে হতো। কিন্তু এতেও অরাজি সাফাই বিভাগের অস্থায়ী কর্মচারীরা। এক কাউন্সিলর বলছেন, “এর আগে ২০১০ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত তারকেশ চট্টোপাধ্যায় পুরপ্রধান থাকাকালীন অস্থায়ী কর্মীদের বেতন বাকি ছিল টানা ১৮ মাস । কিন্তু তখন কর্মচারীরা এমন কর্মবিরতি করেননি।”

এবারের কর্মবিরতিতে উস্কানি দেওয়া হচ্ছে, অভিযোগ পুরুলিয়া পুর কর্তৃপক্ষর। বুধবার পুরুলিয়া শহরের গাড়িখানায় স্থিত সাফাই বিভাগের কার্যালয় থেকে কোন গাড়ি বার হয়নি। হঠাৎ সাফাই বিভাগ কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় সমস্যায় পড়েন কাউন্সিলররা। অপরিচ্ছন্ন নোংরা থাকায় তাদের দিকে আঙুল তুলতে থাকেন সাধারণ মানুষজন।

পুরুলিয়ার পুরপ্রধান নবেন্দু মাহালি বলেন, “পুরসভা থেকে আমরা আগেই ঘোষণা করেছিলাম অস্থায়ী কর্মচারীদের বেতন ১ থেকে ২ মাস বকেয়া থাকবে। কারণ আমাদের অর্থনৈতিক হাল খুবই খারাপ। সাফাই বিভাগের ৯৭৫ জন অস্থায়ী কর্মীকে গত ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পয়লা এপ্রিল দেওয়া হয়েছে। ওই বেতন হিসাবে ৩৮ লাখ টাকা দিয়েছে পুরুলিয়া পুরসভা। তারপর বেতন পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যেই এভাবে কাজ বন্ধ করে দেওয়াকে আমরা ভালো চোখে দেখছি না। “

Post Comment