দেবীলাল মাহাত,আড়শা:
ফের এক সিভিক ভলান্টিয়ারের মানবিক মুখ। এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর বাড়ি থেকে ভুলে যাওয়া এডমিট কার্ড পৌঁছে দিল পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে যাওয়া এক পরীক্ষার্থীর হাতে। সেই পরীক্ষার্থী এডমিট কার্ড হাতে পেয়ে পরীক্ষা দিয়েছে নির্বিঘ্নেই।
সোমবার মাধ্যমিকের ইতিহাস পরীক্ষা ছিল। এই বছর আড়শা ব্লকের বেলডি গ্রামের অষ্টমী মাহাত গৌরাদাগ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। তার পরীক্ষার আসন পড়েছে আড়শা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। অন্য দিনের মতো আজকেও সময়ের আগেই বন্ধুদের সাথে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে যায় অষ্টমী মাহাত । কিন্তু সে বাড়িতে ভুলে যায় এডমিট কার্ডটি। বাড়ির লোক তা দেখতে পেয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। কি হবে, কি হবে তা হতেই বাড়ির মধ্যে ভিড় জমে যায়। এমন সময় ওই রাস্তা ধরেই আসছিলেন ওই গ্রামের সিভিক ভলান্টিয়ার কৈলাস মাহাত। খবর জানতে পেরেই এডমিট কার্ড নিয়ে তড়িঘড়ি মোটরসাইকেলে বেরিয়ে পড়েন। ভাঙ্গাচোরা ১৩ কিমি পথ উঁচিয়ে সময় থাকতেই পৌঁছে যায় পরীক্ষাকেন্দ্রের দরজায়। সিভিক ভলান্টিয়ারের হাত থেকে এডমিট কার্ড হাতে পেয়েই হাসিতে মুখ ভরে ওঠে অষ্টমী মাহাতোর । সিভিক ভলান্টিয়ার কৈলাস মাহাত জানান, “আমি আমার কতর্ব্যপালন করেছি মাত্র। আমার ডিউটি রাত্রিতে ছিল। ওই রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম। তখন শুনলাম অষ্টমী মাহাত বাড়ি থেকে এডমিট কার্ড নিয়ে যেতে ভুলে গিয়েছে। তখন এক মিনিটেও সময় নষ্ট না করে মোটরসাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। সময়ের মধ্যে ওর হাতে এডমিট কার্ড তুলে দিতে পেরে ভালো লাগছে।” পরীক্ষার শেষে অষ্টমী মাহাত জানান, “আজকে এডমিট কার্ড আনতে ভুলে গিয়েছিলাম। ওই দাদাকে অনেক ধন্যবাদ। ওই দাদা না থাকলে পরীক্ষা দেওয়াই হতো না। অষ্টমী মাহাতোর দিদি মমতা মাহাত জানান, ” বাবা-মা ছিল না ঘরে । বাড়িতেই বোনের এডমিট কার্ড রয়ে গিয়েছে দেখে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ি। তবে ওই সিভিক দাদার জন্য আমার বোন পরীক্ষা দিতে পেরেছে। ধন্যবাদ জানাই ওই সিভিক দাদা সহ আড়শা থানার পুলিশ প্রশাসনকে।” গৌরাদাগ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্যারিচাঁদ গঁরাই জানান, “ওই সিভিক ভলান্টিয়ার যে ভাবে পরীক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
Post Comment