insta logo
Loading ...
×

ভেঙে গেল আদিবাসী কুড়মি সমাজ, তৈরি কুড়মিদের নতুন সংগঠন

ভেঙে গেল আদিবাসী কুড়মি সমাজ, তৈরি কুড়মিদের নতুন সংগঠন

নিজস্ব প্রতিনিধি, হুড়া:

হুড়া থেকে নতুন অধ্যায় শুরু করল কুড়মি আন্দোলন। আদিবাসী তালিকাভুক্তির দাবিকে সামনে রেখে ভেঙে গেল পুরনো সংগঠনের কাঠামো। তার জায়গায় জন্ম নিল নতুন সামাজিক মঞ্চ। নাম ছোটনাগপুর আদিবাসী কুড়মি সমাজ।

শনিবার হুড়া থানার উদাসীন কুম্ভ মহারাজা স্মৃতি ময়দানে জেলার ১৪টি ব্লক থেকে আসা প্রায় ৫০০ কুড়মি নেতার উপস্থিতিতে আত্মপ্রকাশ করল এই সংগঠন। আদিবাসী কুড়মি সমাজের বর্তমান নেতৃত্ব, বিশেষ করে সংগঠনের প্রধান অজিতপ্রসাদ মাহাতোর বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমতেই এই নতুন উদ্যোগ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

নতুন সংগঠনের নেতৃত্বের দাবি, কুড়মি আন্দোলনের মূল লক্ষ্য— আদিবাসী তালিকাভুক্তি— ক্রমে আড়ালে চলে যাচ্ছিল। বেআইনি বালি খাদান, জমি রক্ষা-সহ নানা ইস্যু গুরুত্ব পেলেও কেন্দ্রীয় দাবিটি দুর্বল হয়ে পড়ছিল। সেই সঙ্গে সংগঠনের অন্দরে একনায়কতন্ত্র ও নানা বেনিয়মের অভিযোগও উঠছিল দীর্ঘদিন ধরেই। এই পরিস্থিতিতেই আলাদা পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত।

উল্লেখ্য, গত বছর পুজোর মুখে আদিবাসী তালিকাভুক্তির দাবিতে বেআইনি রেল অবরোধ ঘিরে হাই কোর্টের নির্দেশ ও পুলিশের পদক্ষেপকে কেন্দ্র করেই পুরনো সংগঠনে চরম মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে। সেই সময় আদিবাসী কুড়মি সমাজের মঞ্চ থেকে তৃণমূলকে ভোট না দেওয়ার ঘোষণাও বিতর্ক বাড়িয়েছিল। তার পর থেকেই অজিতপ্রসাদ মাহাতোর বিরোধী শিবির সক্রিয় হয়ে ওঠে।

ডিসেম্বরে পুরুলিয়ার বোঙাবাড়িতে জঙ্গলমহলের চার জেলা, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেন তাঁরা। তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিজেপি প্রতিনিধিদের কাছেও দাবি নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সংগঠন।

সংগঠনের নামকরণেই স্পষ্ট করা হয়েছে আন্দোলনের দিশা। ছোটনাগপুর অঞ্চলের সমস্ত কুড়মিকে ঐক্যবদ্ধ করার ডাক দিয়েছিলেন প্রয়াত উদাসীন কুম্ভ প্রসাদ মহারাজা। তাঁর আদর্শ ও ভাবনাকেই ভিত্তি করে পথচলা হবে বলে এ দিনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। আপাতত ১৫ সদস্যের একটি এক্সিকিউটিভ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রত্যেক সদস্যের সমান ক্ষমতা থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

সরস্বতী পুজোর পর পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা ও অসমের কুড়মি জনজাতিদের নিয়ে বৈঠকের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রথম ধাপে রাজ্য কমিটি গঠন, তার পর ব্লক, জেলা ও কেন্দ্রীয় স্তরে সাংগঠনিক কাঠামো তৈরির রূপরেখা স্থির হবে।

এ দিনের সভা থেকে জানানো হয়, আদিবাসী তালিকাভুক্তির দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা, ছোটনাগপুর প্রজাস্বত্ব আইন কার্যকর করা এবং প্রাথমিক স্তরে কুড়মালি ভাষায় পঠনপাঠন ও শিক্ষক নিয়োগ— এই দাবিগুলিও অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে।

ছোটনাগপুর আদিবাসী কুড়মি সমাজের এক্সিকিউটিভ কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা সুজিত মাহাতো বলেন, “কুড়মি জনজাতির দীর্ঘদিনের দাবি আদিবাসী স্বীকৃতি। সেই লক্ষ্যেই নতুন করে সংগঠন গড়া হল। ধাপে ধাপে সংগঠন বিস্তার লাভ করবে।”

Post Comment