দেবীলাল মাহাত, আড়শা:
বাড়িতে গিয়ে এক অসুস্থ বৃদ্ধ দম্পতির এসআইআর শুনানি করলেন আড়শা ব্লকের বিডিও গোপাল সরকার। বুধবার আড়শা ব্লকের চাটুহাসা গ্রামের ১১৭ নং বুথে গিয়ে তিনি ওই অসুস্থ দম্পতির শুনানি করেন। বিডিওর এই মানবিকতায় খুশি আড়শা ব্লকের মানুষজন।
আড়শার চাটুহাঁসা চাটানে মালহার উপজাতি পরিবারদের বসবাস। সেই গ্রামের বাসিন্দা কালু মালহার ও তার স্ত্রী চক্রবর্তী মালহারের ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় বুধবার তাদের শুনানির ডাক পড়েছিল। পাশাপাশি তাদের সাথে পড়শি লঙ্কেশ্বর মালহারেরও ডাক পড়েছিল । কিন্তু অসুস্থ থাকায় তিনজনেই আড়শা
ব্লক কার্যালয়ে বুধবার
শুনানিতে আসতে পারেননি। সেই খবর পেতেই আড়শার বিডিও গোপাল সরকার আধিকারিকদেরকে নিয়ে
চাটুহাঁসা চাটানের ঝুপড়িতে গিয়ে শুনানি করেন। টিপ সই নিয়ে নানান নথিপত্র দেখেন। তবে সব প্রয়োজনীয় নথিপত্র তারা দেখাতে পারেননি বলে ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের বিধি রয়েছে যাদের বয়স ৮৫ বছর তাদের কেউ শুনানিতে আসতে না পারলে পরিবারের কোনো সদস্য সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে এলে সেই কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। বিশেষভাবে সক্ষমদের ক্ষেত্রে যে কোন বয়সের ভোটারদের পরিবারের কোনো না কোনো সদস্য সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে এসে আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করলে শুনানি পর্ব করা যাবে। কিন্তু এক্ষেত্রে মানবিকতার পরিচয় দিয়ে আড়শার বিডিও গোপাল সরকার বলেন, ” ওই মালহার উপজাতির তিন সদস্য অসুস্থ। এ বিষয়টি আমরা জানার পরেই আমরা তাদের বাড়িতে গিয়ে শুনানি করেছি। “
বয়স্ক মানুষজনদের ক্ষেত্রে এসআইআর শুনানিকে ঘিরে নানান বিতর্ক চলছে। শুনানিকে ঘিরে পথে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এরই মধ্যে পাড়া ব্লক এলাকায় এক বৃদ্ধের শুনানির দিন রেললাইনের ধারে দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। বিধি নিয়ে কমিশনকে রীতিমত আক্রমণ করা হচ্ছে। সেই জায়গায় আড়শার বিডিও যে মানবিকতার পরিচয় দিলেন তা নজিরবিহীন। এদিন ওই বৃদ্ধ দম্পতি বলেন, ” কয়েক দিনের ঠান্ডাতে আমাদের জ্বর চলে এসেছে। তাই শুনানির দিন থাকলেও ব্লক কার্যালয়ে যেতে পারিনি। আমরা পড়শিদেরকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম। তা বলে স্বয়ং বিডিও স্যার বাড়িতে আসবেন, ভাবতে পারিনি।”











Post Comment