সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:
দোল হোলি ও পলাশ পর্যটনের মরশুমকে সামনে রেখে শহরকে যানজটমুক্ত রাখতে বড়সড় উদ্যোগ নিল পুরুলিয়া জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। পর্যটকদের স্বস্তি, নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং শহরের শৃঙ্খলা ফেরাতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত পুরুলিয়া শহরজুড়ে চলে বিশেষ অভিযান। প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা উৎসবের মরশুমে কোনও বিশৃঙ্খলা বা বেপরোয়া চলাচল বরদাস্ত করা হবে না।
শীতের পর থেকেই পুরুলিয়া শহর ও সংলগ্ন এলাকায় পর্যটকদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। দোল হোলির সময় সেই ভিড় আরও বাড়বে বলেই অনুমান প্রশাসনের। বিশেষ করে স্টেশন চত্বর, মধ্য বাজার ও ভিক্টোরিয়া স্কুল মোড় এলাকায় দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যাকে মাথায় রেখে আগেভাগেই সক্রিয় হয়েছে ট্রাফিক বিভাগ। উদ্দেশ্য একটাই, শহরে প্রবেশ করা কোনও পর্যটক বা সাধারণ মানুষ যাতে যানজট বা বিশৃঙ্খলার কারণে সমস্যায় না পড়েন।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন পুরুলিয়ার ডিএসপি, ট্রাফিক অরিন্দম চক্রবর্তী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ট্রাফিক বিভাগের দুই ওসি সঞ্জয় সাঁতরা ও রাহুল মণ্ডল। পাশাপাশি সহযোগিতা করে পুরুলিয়া সদর থানা।
বিশেষ নজর দেওয়া হয় পুরুলিয়া রেলস্টেশন চত্বরে। আগে থেকেই জানানো ছিল, স্টেশনের প্রবেশপথে নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি টোটো দাঁড়াতে পারবে না। কিছুদিন নিয়ম মানা হলেও সম্প্রতি সেই নিয়ম ভাঙার অভিযোগ উঠছিল। ফলে স্টেশন এলাকায় নেমে আসা যাত্রী ও পর্যটকদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল।
বৃহস্পতিবারের অভিযানে বিধি ভেঙে পার্কিং করায় মোট ৯টি টোটো আটক করা হয়। পাশাপাশি স্টেশন চত্বরে রাস্তার ওপর পসরা সাজিয়ে বসা কয়েকটি দোকানের বোর্ড ও চেয়ার সরিয়ে দেয় পুলিশ। ট্রাফিক বিভাগ জানায়, রাস্তা দখল করে নির্মাণ ও নর্দমা অবরুদ্ধ করার মতো ঘটনাও নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দু’দিনের মধ্যে দখল সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
দিনভর অভিযানে মোট ১৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। ভিক্টোরিয়া মোড়ের কাছে বেপরোয়া চলাচলের অভিযোগে একটি চার চাকার গাড়িকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মধ্য বাজার এলাকায় যত্রতত্র পার্কিংয়ের জন্য ১৩টি মোটরবাইক ও চার চাকার গাড়ি থেকে ৫০০ টাকা করে জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়া নো-এন্ট্রি অমান্য করায় একটি ৬ চাকার গাড়ির বিরুদ্ধে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ট্রাফিক বিভাগের দাবি, প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে শহরের যানজট সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। কখনও পুরসভার সঙ্গে সমন্বয়ে, কখনও নিজস্ব উদ্যোগে অভিযান চালানো হয়েছে। সম্প্রতি পুরসভার প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তনের পর সমন্বয় আরও জোরদার হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রশাসনের একাংশের মতে, এ কেবল একদিনের অভিযান নয়, উৎসব ও পর্যটন মরশুম জুড়ে এই ধরনের বিশেষ ড্রাইভ চলবে। লক্ষ্য শুধু জরিমানা আদায় নয়, বরং নাগরিকদের মধ্যে নিয়ম মানার অভ্যাস গড়ে তোলা। শহরের স্টেশন এলাকা ও মধ্য বাজারে স্থায়ী সমাধানের জন্য আলাদা ট্রাফিক পরিকল্পনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পর্যটন নির্ভর অর্থনীতির জন্য বাংলার মানচিত্রে পরিচিত হতে থাকা পুরুলিয়ায় সুষ্ঠু ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ।









Post Comment