নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
নির্বাচনের মুখে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র কারবারে লাগাম টানতে ফের পুরুলিয়া শহরে হানা দিল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স । বৃহস্পতিবার শহরের দশেরবাঁধ মোড়ের একটি বন্দুকের দোকান থেকে মোট ৮৭টি বন্দুক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে এক নলা ও দো-নলা—দু’ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রই রয়েছে। বাজেয়াপ্ত বন্দুকগুলি নিরাপদ হেফাজতে রাখতে ব্যারাকপুরে রাজ্য সশস্ত্র বাহিনীর ৬ নম্বর ব্যাটালিয়নে পাঠানো হয়েছে বলে এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে।
ওই দোকান ঘিরে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র পাচারের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও ওই দোকানকে ঘিরে তদন্তে নেমেছিল পুলিশ। ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহ পুরসভার রিজেন্ট পার্ক এলাকার একটি আবাসনে হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও নগদ টাকা উদ্ধার করে এসটিএফ। সেই ঘটনার তদন্তে উঠে আসে পুরুলিয়ার যোগসূত্র। ১৬ সেপ্টেম্বর পুরুলিয়ার দশেরবাঁধ মোড়ের ওই বন্দুকের দোকানে অভিযান চালিয়ে দোকানের কর্মচারী শেখ মনুকে গ্রেফতার করা হয়। ঝালদার বাসিন্দা মনুর বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধমূলক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। সে সময় পুরুলিয়ার দুলমি এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকত সে। দোকানটি সিল করে দেওয়া হয়। দোকানের মালকিন সুশীলা আধিয়াকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তিনিও গ্রেফতার হন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দোকানটির লাইসেন্স ছিল শেখর আধিয়ার নামে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক ও গুলি কেনাবেচার জন্যই ওই দোকানটি চালু ছিল। আগ্নেয়াস্ত্রগুলি নিরাপদে সংরক্ষণ করার কথাও ছিলো। তবে অতীতে ওই দোকানে দুষ্কৃতীদের হানায় বন্দুক লুঠের ঘটনাও ঘটে। ২০১০ সালে শেখর আধিয়া মারা যান। কিছুদিন বন্ধ থাকে দোকান। পরে মালকিন সুশীলা আধিয়া এক কর্মচারীকে দিয়ে দোকানটি চালু করান। কয়েক মাস পর তাঁকে সরিয়ে দিয়ে কাঠ ব্যবসায়ী শেখ মনুকে দোকানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বর্তমানে দোকানটির বৈধ লাইসেন্স নেই। তবে আগের সময়ের জমা থাকা বহু বন্দুক ও গুলি ‘সেফ কাস্টডি’তে রাখা ছিল। প্রশাসনের তরফে ওই বিষয়টি খতিয়ে দেখতেই বারবার তদারকি করা হয়। বিধি মেনে ২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর এবং ২২ অক্টোবর তৎকালীন অতিরিক্ত জেলাশাসক অরিন্দম বিশ্বাস দোকানটি পরিদর্শনে যান। কিন্তু ওই সময় দোকানের মালকিনকে সেখানে পাওয়া যায়নি। ফলে সেখানে নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তার পরেও তিনি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বলে অভিযোগ।
এসটিএফ সূত্রে দাবি, শেখ মনুর অবাধ যাতায়াত ছিল সুশীলা আধিয়ার বাড়িতে। অপরাধ জগতের সঙ্গে যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে হেফাজতে থাকা বন্দুকগুলি বেআইনি ভাবে পাচার করত সে, এমন তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে। ইতিমধ্যেই কতগুলি বন্দুক পাচার হয়েছে, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।










Post Comment