নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝালদা :
প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য পুরুলিয়ার ৭ বিধানসভার ৭টিতেই বিজেপিকে জেতাতে দলের সমস্ত স্তরের নেতা কর্মীদের নিয়ে দলকে আরও শক্তিশালী করা। বললেন বিজেপির নব নির্বাচিত পুরুলিয়া জেলা সভাপতি শঙ্কর মাহাতো।
দোল পূর্ণিমার সন্ধ্যায় জেলা সভাপতিদের তালিকা প্রকাশিত করে বিজেপি। এবার বিজেপির পুরুলিয়া জেলার সভাপতির কুর্সিতে বসলেন ঝালদা ১ নং ব্লক এলাকার নয়াডি অঞ্চলের পাপড়াহুড়ুম গ্রামের বাসিন্দা শংকর মাহাতো। শনিবার ঝালদার জারগো গ্রামে তাঁকে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করেন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। জেলার ঐতিহ্য ছৌ মুখোশ হাতে তুলে দিয়ে এবং পলাশ ফুলের মালা পরিয়ে তাঁকে সংবর্ধনা জানান দলের নেতাকর্মীরা। উপস্থিত ছিলেন বিজেপির মন্ডল সভাপতি সঞ্জয় সিংহ দেও , ঝালদা শহর মন্ডল সভাপতি মৌসুমী বন্দ্যোপাধ্যায় , ঝালদা ব্লক কনভেনার সুকুমার মাহাতো সহ আরও অনেকে।
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের লক্ষ্যে সভাপতি বদল বিজেপির মাস্টারস্ট্রোক বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷ দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পুরুলিয়া জেলায় দলের বিধায়কদের সিংহভাগের না পসন্দ ছিলেন পূর্বতন জেলা সভাপতি। এমনিতে ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের পর সভাপতির দায়িত্ব পেলেও ধারাবাহিকতা তো দূর, পাতে দেওয়ার মতো ফলও বিজেপি করেনি বিবেক রাঙ্গার আমলে। এমনকি নিজেও জেলা পরিষদের একটি আসনে লড়ে পরাস্ত হয়েছিলেন। আর ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি জিতলেও জয়ের ব্যবধান কমেছে অনেক। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে যেখানে ২ লাখের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, ২০২৪ সালে সেই ব্যবধান কমে ১৭ হাজারের কিছু বেশি হয়। কুড়মি সম্প্রদায়ের ভোট ভাগে বিজেপির ভোটে নেমেছে ধস। এমন তত্ত্বকে মাথায় রেখেই কি একজন ‘কুড়মি’ সম্প্রদায়ের মানুষকে নির্বাচন করা হলো জেলা সভাপতির পদে?
মানছেন না জেলা বিজেপির একটা অংশ। দীর্ঘদিন কুড়মি সম্প্রদায়ের কেউ বিজেপির সভাপতি হননি এটা যেমন ঠিক, তেমনই এটাও ঠিক যে একেবারে তৃণমূল স্তর থেকে রাজনীতি করে ধাপে ধাপে জেলার শীর্ষ পদে উঠে এসেছেন শঙ্কর মাহাতো। বিকাশ ব্যানার্জির পর কয়েক মাসের জন্য জেলা সভাপতি হয়েছিলেন বিকাশ মাহাতো। তারপর বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী পরপর দুবার জেলা সভাপতি হন। তারপর জেলা সভাপতি হন বিবেক রাঙ্গা। আর বিকাশ ব্যানার্জির আগে দীর্ঘদিন পুরুলিয়া জেলায় বিজেপি দলের শীর্ষপদে ছিলেন দলের প্রবাদপ্রতিম নেতা বি পি সিংদেও। ফলে এবার মনে করা হচ্ছে কুড়মি ভোট টানতেই পুরুলিয়ায় অবাঙালি জেলা সভাপতিকে ছেঁটে ফেললো
বঙ্গ বিজেপি। পুরুলিয়ার জেলা সাধারণ সম্পাদক শংকর মাহাতোকে জেলা সভাপতির কুরসিতে বসালো তারা।
এমনিতেই শঙ্কর বাবু সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর অত্যন্ত কাছের মানুষ বলে পরিচিত। এই এক্স ফ্যাক্টরটিও তাঁর দায়িত্ব প্রাপ্তির পক্ষেই গেছে বলে মনে করা হচ্ছে৷ শঙ্কর মাহাতো বলেন, “আমার প্রধান কাজ এই জেলায় আমাদের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা। পুরুলিয়া সাংগঠনিক জেলায় যে সাতটি বিধানসভা আছে তার সব কটিতে বিপুল ভোটে দলকে জয়লাভ করানো।”
এমনিতে পুরুলিয়া জেলায় ৯ টি বিধানসভা আসন। এর মধ্যে রঘুনাথপুর বাঁকুড়া লোকসভার অন্তর্গত। এই আসনে ২০২১ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল বিজেপি। বান্দোয়ান বিধানসভা আসন ঝাড়গ্রাম লোকসভার অন্তর্ভুক্ত। এখানে গতবার জয়ী হয়েছিল তৃণমূল। আর পুরুলিয়া লোকসভার ৭ বিধানসভা আসনের ৫টিতে জয়ী হয়েছিল বিজেপি। যে দুটি বিধানসভাতে তারা পরাস্ত তার একটি মানবাজার, অন্যটি বাঘমুণ্ডি। অবশ্য বাঘমুণ্ডি বিধানসভায় সরাসরি লড়াই করেনি বিজেপি। সেবার জোটসঙ্গী আজসুকে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো এই বিধানসভা এলাকারই বাসিন্দা হলেন সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো ও নব নির্বাচিত জেলা সভাপতি শঙ্কর মাহাতো। সম্প্রতি যেভাবে বাঘমুণ্ডি বিধানসভায় একের পর এক বুথ থেকে বিজেপি ভাঙাচ্ছে তৃণমূল, তাতে আগে নয়া সভাপতি ঘর বাগাবেন না জেলা সামলাবেন, এখন সেই প্রশ্নই বড়ো হয়ে দেখা দিয়েছে।
Post Comment