insta logo
Loading ...
×

অসম্পূর্ণ রাস্তায় পাথরের গড়াগড়ি, যাতায়াতে নাজেহাল আড়শার ৩০-৪০টি গ্রামের বাসিন্দা

অসম্পূর্ণ রাস্তায় পাথরের গড়াগড়ি, যাতায়াতে নাজেহাল আড়শার ৩০-৪০টি গ্রামের বাসিন্দা

নিজস্ব প্রতিনিধি, আড়শা:

দীর্ঘ অপেক্ষার পর শুরু হয়েছিল রাস্তা সংস্কারের কাজ। স্থানীয় বাসিন্দারা ভেবেছিলেন এবার হয়তো যাতায়াতের সমস্যা মিটবে। তবে সেই রাস্তা সংস্কারের কাজে ঢিলেমির অভিযোগ তুললেন এলাকার বাসিন্দারা । অভিযোগ অসম্পূর্ণ রাস্তায় যাতায়াত দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তার মধ্যে গড়িয়ে পড়ছে পাথরের বোল্ডার, ধূলোয় ঢেকে যাচ্ছে রাস্তার আশপাশ। ফলে সমস্যায় পড়েছেন পুরুলিয়া ১ ব্লক সহ আড়শা ব্লকের বেলডি, আড়শা ও মানকিয়ারী গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তত ৩০-৪০টি গ্রামের বাসিন্দারা। রাস্তার এমন ঢিলেমির কাজে ক্ষোভ বাড়ছে এলাকায়।

গ্রামবাসীরা জানান আড়শা থেকে বেলডি হয়ে পুরুলিয়া যাওয়ার ২২ কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। খানাখন্দে ভরপুর। পিচ বলে কিছু নেই। বর্ষার সময়ে খানাখন্দে ভরা রাস্তা দিয়ে চলাচল বিপজ্জনক হয়ে পড়ে । তার উপর রয়েছে ভগ্ন সেতু । সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার অধীনে ২২ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে আড়শা ব্লকের বেলডি সেতু থেকে ভাটবাঁধ পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার রাস্তার কাজ হয়েছিল গতবছর দুর্গাপুজোর আগে। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি নতুনভাবে তৈরি করার জন্য বরাদ্দ করা হয় প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা।

কাজের প্রথম পর্যায়ে মাটি কেটে পাথর ছড়ানো হয়। কিন্তু তার পরে আর পিচের প্রলেপ পড়েনি। সেই পাথর রাস্তায় গড়িয়ে পড়ছে। গাড়ির চাকায় সেই পাথর ছিটকে অনেকেই কমবেশি আহত হচ্ছেন। জল দিয়ে স্প্রে না করায় ধূলোর দাপটে নাজেহাল ছাত্রছাত্রী থেকে পথচারী মানুষ। বাকি রাস্তা চলাচলের অযোগ্য। গ্রামবাসীদের প্রশ্ন রাস্তা সংস্কারের এত টাকা বরাদ্দ হলেও কাজের মান খারাপ কেনো।

এই রাস্তা দিয়েই নিয়মিত যাতায়াত করেন কাঞ্চনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সলিল কুমার মাঝি। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি খারাপ ছিল। দুর্গাপুজোর আগে থেকে রাস্তার আংশিক কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু রাস্তার কাজের মান খুবই খারাপ। রাস্তার উপর পাথর ছড়িয়ে থাকায় যাতায়াতে ছাত্রছাত্রী , কৃষক, ব্যবসায়ী থেকে পথচারী মানুষরা বিপাকে পড়ছেন। রাস্তার কাজ ধীরে চলায় দিন দিন দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। ” জুরাডি গ্রামের অটো চালক সামু গোপ বলেন, “রাস্তার কাজ শুরু হওয়ায় খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু কয়েক মাস ধরে ঠিকাদার পাথর ছড়িয়েই কাজ বন্ধ রেখেছে। বিপদের আশঙ্কা নিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে।” তুম্বাঝালদা গ্রামের আর এক বাসিন্দা কানহু হাজরা বলেন, “পুরুলিয়া শহরে বা মেডিক্যাল কলেজে যেতে হলে এই রাস্তাই ভরসা। প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও সুরাহা হয়নি। আংশিক নয় বর্ষার আগেই পুরো রাস্তাটি সংস্কারের আবেদন জানাই।”

জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার অর্জুন মাহাত বলেন, “দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারকে মার্চের মধ্যে রাস্তার কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে।”

Post Comment