নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া :
কে বলে পুরুলিয়াকে গরিব জেলা ? হোলির ২ দিনে মদ বেচে পুরুলিয়া থেকে সরকারের ঘরে রাজস্ব কত টাকা ঢুকলো জানেন? ১১ কোটিরও বেশি। পলাশের রঙ তো ছিলই। মদের ফোয়ারায় পুরুলিয়া আরও রঙিন। রেকর্ড ছাপিয়ে নতুন রেকর্ড। ২০২৪ সালের হোলিতে ঝাড়খণ্ড সীমান্তের এই জেলায় বিয়ার, দেশি, বিদেশি মদ মিলিয়ে রেকর্ড রাজস্ব আদায় হয়েছিল। রাজস্বের পরিমাণ ছিল ৮ কোটি টাকার বেশি। নিজের সেই রেকর্ড নিজেই এবছর হোলিতে ভেঙে দিলো রুখামাটির জেলা। গতবারের থেকে এবার প্রায় তিন কোটি টাকা রাজস্ব বেশি আদায় হয়েছে। রাজস্বের পরিমাণ ১১ কোটি ৩৩ লক্ষ ৯৪ হাজার ৯৮৯ টাকা ২৫ পয়সা। পুরুলিয়ার আবগারি দপ্তরের সুপারিনটেনডেন্ট অর্ণব সেনগুপ্ত বলেন, ” দোল উৎসবে রেকর্ড মদ বিক্রি হয়েছে এবছর। গত বছরের চেয়ে এবার এই উৎসবে ২৩.২১ শতাংশ বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে।”
মদ বিক্রিতে সব থেকে ভালো মরশুম দুর্গাপুজো। তবে এবার হোলিতে মদের দেদার বিক্রিতে আবগারি দপ্তরের কর্তারাও যথেষ্ট বিস্মিত। মনে করা হচ্ছে হোলিতে পলাশ পর্যটনে পুরুলিয়ায় প্রচুর পর্যটক এসেছিলেন। রাজস্ব আদায়ে তাঁদেরও অবদান যথেষ্ট। সাধারণত জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে হোলিতে অন্যবার যে মদ বিক্রি হয় এবার তার চেয়ে অনেক বেশি বিক্রি হয়েছে। আবগারি দপ্তরের হিসাব বলছে, গত বছর হোলির মরশুমে বিয়ার বেচে রাজস্ব এসেছিল ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এবার প্রায় ২ কোটি। গত বছর হোলির মরশুমে ফরেন লিকার বা বিদেশি মদ বেচে রাজস্ব এসেছিল ৪ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা। এবছর হোলিতে রাজস্ব মিলেছে ৬ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা। দেশি মদের দাম কম। গত বছর হোলির মরশুমে দেশি মদ বেচে রাজস্ব এসেছিল ২ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা। এবার ৩ কোটি ২১ লাখ। দুর্গাপুজোয় মদ বিক্রিকেও এবার হারিয়ে দিয়েছে হোলি। পুরুলিয়া জেলা ফরেন লিকার অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মোহিত লাটা বলেন, ” এবার মদ বিক্রিতে দুর্গা পুজোর সঙ্গে রীতিমত পাল্লা দিয়েছে হোলি।”
দরিদ্র জেলা বলে চিহ্নিত পুরুলিয়ায় মদ বিক্রির এই হিসেব রীতিমতো চমকে দিচ্ছে জেলাবাসীকে। নেশা সর্বনাশ করছে বলে বিভিন্ন গ্রাম থেকে ওঠে মহিলাদের অভিযোগ। সেই অভিযোগের পাশে এবারে হোলিতে মদ বিক্রির পরিমান সরকারের ঘরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার হয়ে দাঁড়ালো।
Post Comment