insta logo
Loading ...
×

বিদ্রোহ তৃণমূলে, টিকিট না পেয়ে সমাজ মাধ্যমে একের পর এক হেভিওয়েটদের

বিদ্রোহ তৃণমূলে, টিকিট না পেয়ে সমাজ মাধ্যমে একের পর এক হেভিওয়েটদের

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া :

আগুন লেগে গেছে তৃণমূলে। সিট মাত্র ৯ টা কিন্তু সেই সিট পাওয়ার ‘উম্মিদ’ ষোলআনার বদলে আঠেরো আনা ছিলো অন্তত নয় নাম একাশি জানের। প্রার্থী না হতে পেরে ইতিমধ্যেই দলে শুরু হয়ে গিয়েছে বিদ্রোহ। সমাজমাধ্যম এখন সহজ মাধ্যম। ফলে সেখানেই রাগ ক্ষোভ অভিমান উগরে দিচ্ছেন ঘাসফুল প্রার্থী না হতে পারা নেতা নেত্রীরা।

মিল অনেক জায়গায়। প্রথমত, দল তাঁদের কাউকেই টিকিট দেয়নি। দ্বিতীয়ত, সমাজমাধ্যমে পোস্টের ভাষাও প্রায় এক। তৃতীয়ত, প্রত্যেকেই নির্দল লড়বেন, ভাবছেন।

প্রথমেই আসা যাক মিনু বাউরির কথায়। ২০০৯ সালে পাড়া বিধানসভা উপনির্বাচনে সিপিআইএম দলের টিকিটে বিধায়ক হয়েছিলেন। কিন্তু ২০১১তে তাঁকে টিকিট দেয়নি দল। শ’ পাঁচেক ভোটে সিপিআইএম প্রার্থী দীপক বাউরিকে হারিয়ে এমএলএ হন কংগ্রেস প্রার্থী উমাপদ বাউরি। তারপরে পরিবর্তন জমানায় টিকিট না পাওয়া কমিউনিস্ট মিনু আর জয়ী কংগ্রেসি উমাপদ সোজা সামিল ঘাসফুলে। উমাপদ ২০১৬ সালে তৃণমূল টিকিটে ফের এমএলএ, ২০২১ এ আবার প্রার্থী। অন্যদিকে দল বদলে বিশাল গুরুত্ব পেয়ে যান মিনু বাউরিও। বর্তমানে তিনি দলের মহিলা সংগঠনের জেলা সভানেত্রী। তা সত্ত্বেও এমন ফেসবুক পোস্ট!

কী লিখেছেন মিনু? “বিধানসভা নির্বাচনে দলের প্রার্থীরা মনোনীত প্রার্থীদের হতে হবে জনগণের ভোটে নির্বাচিত”।

তাহলে কি নির্দল প্রার্থী হচ্ছেন মিনু? তাঁর ফেসবুক কমেন্ট ভরে যাচ্ছে। রামপ্রসাদ দেওঘরিয়া লিখেছেন, “প্রিয় মিনু দি প্রাক্তন এমএলএ হিসেবে পাড়া বিধানসভা এলাকায় আপনার যথেষ্ট স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে আমি ভেবেছিলাম আমাদের পাড়া বিধানসভা এলাকায় আপনি প্রার্থী হবেন প্রার্থী তালিকা দেখে খুব হতাশ হলাম। ভোট দিতে যাবার আর ইচ্ছে নেই”। তিনিই আবার লিখছেন, “নমিনেশন পত্র জমা হওয়ার আগে পর্যন্ত প্রার্থীর নাম পরিবর্তন হতে পারে সেরকম নিয়ম রয়েছে”। সেখ নাঈম হোসেন লিখছেন, ” তোমার টাকা নাই যাদের টাকা আছে তারা হলো।” প্রকাশ সরকার লিখছেন, ” মানিকবাবুকে পাড়া বিধানসভাতে কেও চিনেই নাই?? আমার মনে হয় নাম পাবলিশ হওয়ার পর প্রায় 90% মানুষ তার ফটোতেই মুখ দেখে বুঝতে পারলেন।”

এদিকে পুরুলিয়া বিধানসভা ঘিরেও ঘোর গণ্ডগোল। আগেই কেপি সিং দেওয়ের স্মরণসভায় গিয়ে তাঁর পুত্র দিব্যজ্যোতি প্রসাদ সিং দেওয়ের নাম প্রার্থী হিসেবে প্রস্তাব করে এসেছিলেন পুরুলিয়ার প্রাক্তন পুরপ্রধান তথা জেলা তৃণমূল সম্পাদক নবেন্দু মাহালি। এবার সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় পুরুলিয়া বিধানসভা আসনে প্রার্থী হতেই সমাজ মাধ্যমে নবেন্দুর পোস্ট, “বিধানসভা নির্বাচনে দলের প্রার্থীরা মনোনীত
প্রার্থীদের হতে হবে জনগনের ভোটে নির্বাচিত”। সেই মিনু দেবীর মতোই। সেই পোস্টেও কমেন্টের বন্যা। রূপক চক্রবর্তী লিখছেন, “গণতন্ত্রের উৎসব হলো নির্বাচন, আর সেই উৎসবের প্রাণ হলো সাধারণ মানুষ। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, বিধানসভা নির্বাচনের সময় অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায় জনগণের চাহিদাকে উপেক্ষা করে দলগুলো প্রার্থী চাপিয়ে দেয়। জয় বাংলা। ” বাবু আঢ্য লিখছেন,” একটা কথা দাদা বলছি, শহরের ভোট টা অনেক টা নির্ভর করবে আপনার ওপর, আপনিই পারেন, সব টা এখানে বলতে পারলাম না, মনে হয় বুঝতে পেরেছেন।”

এদিকে ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে দলের টিকিট না পেয়ে ফুটবল ছাপে নির্দল প্রার্থী হয়েছিলেন তৎকালীন ব্লক যুব তৃণমূল সভাপতি দিব্যজ্যোতি সিং দেও। সেবার তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল কুমারের মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়। একেবারে শেষ লগ্নে খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাশিপুরের সভা থেকে ঘোষণা করেছিলেন, দল দিব্যজ্যোতিকে নিজেদের প্রার্থী ভাববে। মাত্র ১ দিন প্রচারের সময় পেয়েছিল তৃণমূল। সম্পূর্ণ নিজের ক্যারিশ্মায় প্রায় ৩৫ হাজার ভোট পেয়ে তৃণমূলের মুখ রক্ষা করেছিলেন দিব্যজ্যোতি। এবারও তিনি আশা করেছিলেন দল তাঁকে প্রার্থী করবে। করেনি দল। ফেসবুক পোস্টে দিব্যজ্যোতি লিখেছেন সেই মিনু বাউরি, নবেন্দু মাহালির অনুরূপ কথা। “বিধানসভা নির্বাচনে দলের প্রার্থীরা মনোনীত
প্রার্থীদের হতে হবে জনগনের ভোটে নির্বাচিত,
জয়পুর বিধানসভার জনগনের রায়কে ধোকা।”

সেখানেই কমেন্টের বন্যা। অনিমেষ দত্ত লিখছেন, ” কমেন্টে 100% লোক চাইছে তোমাকে। আমরা যারা টিএমসি করিনা তারাও চাই তুমি যেতো, তুমি যে দলেরই হও তোমার বিধায়ক হওয়া তে জয়পুরের ভালো হবে আমরা সবাই জানি। তুমি নির্দল দাঁড়াও বা এই পরিস্থিতিতে যদি অন্য পার্টির ঝান্ডা ধরেও যেতো তাও তোমাকে কেও দোষ দেবে না। কারন সবাই তোমাকে চাই পার্টি যেই হোক। তোমার সাথে ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার দিন দেখা হয়েছিলো বলেছিলাম যে দাদা এবার টিকিট টা না পেলে বিদায় জানাও আর সেটাই করা উচিত। তুমি জিতবে সে যে দলের হয়েই দাঁড়াও। বাকী তোমার ইচ্ছা।” এসকে সইফুল রহমান লিখছেন, “আপনাকে রিকোয়েস্ট করছি ,কি প্রতীক ? কিসের সেনাপতি ,? কার তাবেদারী?
আপনি আইকন, আপনি জনগণের নয়নের মণি , আপনার প্রতীক জনগণ, আপনার সেনাপতি জনগণ, আপনি জনগণের তাবেদারী করেন,
জনগণ আপনার !
আপনার হারাবার কিছু নাই ,
আর পাওয়ারও কিছু নাই

আপনি নির্দল থেকে দাড়ান !!
হাত জোড় করে অনুরোধ করছি আপনি দাড়ান প্লীজ ।
মানুষ আপনাকে জয়ী করবে”।

চরম আতান্তর তৃণমূলে। বিরোধী শক্তির চেয়ে দলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সামলানোই এখন ঘাসফুল শিবিরের বড়ো চ্যালেঞ্জ।

Post Comment