বিশ্বজিৎ সিং সর্দার, পুরুলিয়া :
অভাব অনটন তার নিত্য দিনের সঙ্গী। চরম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা তার। এই তীব্র অভাব অনটনের মধ্যেও চাঁদ ছোঁয়ায় স্বপ্ন দেখেছিল পুরুলিয়ার অজ পাড়া গাঁয়ের সীমা মাহাতো। স্বপ্ন দেখার যে কোন সীমা হয় না সেটাই যেন প্রমাণ করে দিয়েছে সে। অনূর্ধ্ব ১৯ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় বাংলার হয়ে মাঠে নামবে পুরুলিয়া ১ নম্বর ব্লকের মাহালিতোড়ার বাসিন্দা, বেলগুমা বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী সীমা মাহাতো। বিদ্যালয়স্তরের ফুটবলে জাতীয় স্তরের এই প্রতিযোগিতায় বাংলা দলে সুযোগ পেয়েছে সে। আগামী ১৫ থেকে ২০ এপ্রিল মণিপুরে অনুষ্ঠিত হবে এই প্রতিযোগিতা। ১২ই এপ্রিল সীমা রওনা দেবে কলকাতায়। সেখান থেকে ১৩ তারিখে ফ্লাইটে মনিপুর।
১৭ বছরের এই কিশোরী ফুটবলার এর আগে দু’বার বাংলা দলে সুযোগ পেয়েছিল। ২০২২-এ জন্মের শংসাপত্রে বাবার নাম ভুল থাকায় সুযোগ পেয়েও তার মাঠে নামা হয়নি। ২০২৩-এ অবশ্য সেই স্বপ্ন পূরণ হয় আইএফএ-র জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায়। কিন্তু একটা গোলও সে করতে পারেনি সেবার।
স্কুল স্তরে বাংলার হয়ে এবার প্রথম নামবে সীমা। ২০১৭ সালে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়াকালীন তার ফুটবলে হাতেখড়ি। জেঠতুতো দাদা বিষ্ণুপদ মাহাতোর হাত ধরেই ফুটবলে পা ছুঁইয়ে ছিল সে। প্রাথমিক এবং হাইস্কুল স্তরে সাফল্যের পর বাংলার হয়ে সুযোগ আসে তার।
সীমার বাবা সামান্য চাষাবাদ করে কোনক্রমে দিন গুজরান করেন। ছ-মাস আগে কোচবিহারে বিভিন্ন জেলা থেকে ফুটবলের দল যাওয়ার পর সেখানে খেলার মধ্য দিয়ে বাংলার দল নির্বাচন হয়। সেই সদস্যদের নাম সম্প্রতি জানানো হয়। তারপরেই মণিপুরের মাঠে গোল দেওয়ার লক্ষ্যে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে চলছে সীমা।
সীমা বলেছে, “পাকাপাকিভাবে বাংলার হয়ে ফুটবল খেলতে চাই। আর এবার স্কুল স্তরের এই ফুটবল প্রতিযোগিতায় গোল করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। “
কোচ বিষ্ণুপদ মাহাতোর তত্ত্বাবধানে তার কঠোর প্রশিক্ষণ চলছে। শীত-গ্রীষ্ম- বর্ষা ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে সকাল ন’টা। তারপর বিকাল সাড়ে চারটা থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত প্র্যাক্টিস। এই খেলা নিয়ে সম্পূর্ণ আশাবাদী সে।
সীমাকে নিয়ে আশাবাদী তার কোচ বিষ্ণুপদ মাহাতো। তিনি বলেন,” ছোটবেলা থেকে আমার কাছে প্রশিক্ষণ নিয়েছে সীমা। তাই সবার মত আমিও চাই সীমা পুরুলিয়ার নাম উজ্জ্বল করুক। “
Post Comment