insta logo
Loading ...
×

নজির গড়ল পুরুলিয়া জেলা পরিষদ

নজির গড়ল পুরুলিয়া জেলা পরিষদ

নিজস্ব প্রতিনিধি , পুরুলিয়া:

পরপর দুটো অর্থ বছরে নজির সৃষ্টি করল পুরুলিয়া জেলা পরিষদ। টেন্ডার পেতে বিভিন্ন সংস্থাকে নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দ হওয়া অর্থের কিছু অংশ ছাড় দিতে হয়। পরিভাষায় তাকে বলে টেন্ডার লেস। সেই
অর্থকেও উন্নয়নের কাজে লাগাল পুরুলিয়া জেলা পরিষদ। ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ পরপর দুটো আর্থিক বছরে এমন বেনজির কাজ করে নবান্নের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে তারা l সাধারণত সরকারি দফতর টেন্ডার লেসের টাকা অ্যামিউজমেন্ট ফি হিসেবে ব্যবহার করে। চা,টা, সংবাদপত্র কেনা এইসব। সেই গতে বাঁধা পথে না গিয়ে ওই অর্থ উন্নয়নের কাজে ব্যয় করছে পুরুলিয়া জেলা পরিষদ।

২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে টেন্ডার লেসের পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৫৬ লক্ষ ৬,৮৬৫ টাকা। এই টাকার মধ্যে ১ কোটি ৩৯ লক্ষ ৬,৮৬৫ টাকার কাজ করে ফেলেছে পুরুলিয়া জেলা পরিষদ। বাকি অর্থ পড়ে রয়েছে তহবিলে।
অন্যদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও সেই ধারাকে অনুসরণ করা হয়েছে। টেন্ডার লেস থেকে প্রাপ্ত ২২ কোটি ৯৫ লক্ষ ৯০ হাজার ১৮৪ টাকার মধ্যে কাজ করার জন্য ১৭ কোটি ৯৪ লক্ষ টাকার টেন্ডার ডাকা হয়ে গেছে। ৮ কোটি ১৩ লক্ষ টাকার কাজ আন্ডারপ্রসেস।

সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতো বলেন, “পঞ্চদশ অর্থ কমিশনে ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে আমাদের যে টাকা পড়ে রয়েছে তা ‘টেন্ডার লেস’ এর অর্থ । একেই আমরা উদ্বৃত্ত অর্থ বলছি। তাই সেই অর্থ আমরা চলতি আর্থিক বছরে কাজে লাগাতে পারি। ওই অর্থ কিন্তু কোন বরাদ্দকৃত প্রকল্পের টাকা নয়।”

পুরুলিয়া জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে টায়েড অর্থাৎ নির্দিষ্টকরণ বিষয়ে প্রথম কিস্তিতে টাকা আসে ৬ কোটি ৬৩ লাখ ৩৭,২৫০ টাকা। দ্বিতীয় কিস্তিতে টাকা আসে ৫ কোটি ৮৭ লাখ ৯৯ হাজার ৬৭৮ টাকা। এই খাতে মোট অর্থের পরিমাণ ছিল ১২ কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৮ টাকা। একইভাবে ওই আর্থিক বছরে নির্দিষ্ট নয় এমন তহবিলে টাকা আসে প্রথম কিস্তিতে ৪ কোটি ৪২ লাখ ২৪ হাজার ৮৩৪ টাকা। দ্বিতীয় কিস্তিতে আসা অর্থের পরিমাণ ৪ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ৩৩৮ টাকা। এই খাতে মোট ৮ কোটি ৭১ লাখ ৫১৭২ টাকা। সবে মিলিয়ে নির্দিষ্ট ও অনির্দিষ্ট মিলিয়ে মোট টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ২১ কোটি ২২ লাখ ৪২ হাজার ১০০ টাকা। ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরেও নির্দিষ্টকরণ বা শর্তাধীন প্রকল্পে প্রথম কিস্তিতে টাকা আসে ৭ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ৪৮ টাকা। ওই খাতের দ্বিতীয় কিস্তিতে টাকা আসে ৬ কোটি ৭৬ লাখ ২,৪০৪ টাকা। যা মোট দাঁড়ায় ১৩ কোটি ৯৯ লাখ ৬২ হাজার ৪৫২ টাকা। একইভাবে নির্দিষ্ট নয় এই খাতে প্রথম কিস্তিতে টাকা আসে ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৯৮ হাজার ৯৪৯, দ্বিতীয় কিস্তিতে ৪ কোটি ৪৭ লাখ ২৮ হাজার ৭৮৩। এই খাতে যার পরিমাণ ৮ কোটি ৯৬ লাখ ২৭,৭৩২। সামগ্রিকভাবে ২২ কোটি ৯৫ লাখ ৯০ হাজার ১৮৪ টাকা। ২০২৫-২৬ আর্থিক
বছরে ইতিমধ্যেই ১৭০ টি কাজের দরপত্র আহ্বান করেছে এই জেলা পরিষদ।

সহ-সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,
” নানা বাধা, সমস্যার মধ্য দিয়েও পুরুলিয়া জেলা পরিষদ উন্নয়নের কাজে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা টেন্ডার লেসের অর্থ দিয়ে
উন্নয়নের কাজ করে দৃষ্টান্ত গড়েছি।”

Post Comment