insta logo
Loading ...
×

নিজের বাল্যবিবাহ রুখে বীরাঙ্গনা পুরুলিয়ার কিশোরী

নিজের বাল্যবিবাহ রুখে বীরাঙ্গনা পুরুলিয়ার কিশোরী

বিশ্বজিৎ সিং সর্দার,পুরুলিয়া :

নিজের বাল্যবিবাহ রুখে বীরাঙ্গনা পুরুলিয়ার কিশোরী। তাকে সম্মানিত করল রাজ্য সরকার।

সাহসিকতার অসাধারণ উদাহরণ স্থাপন করল পুরুলিয়ার কিশোরী প্রিয়াঙ্কা মাহাতো। পুরুলিয়া জেলার টামনা থানার চিপিদা গ্রামে তার বাড়ি।২০০৮ সালের ২০ জুন জন্ম প্রিয়াঙ্কার। অন্য আর পাঁচটা সাধারণ মেয়ের মতোই পড়াশোনা খেলাধূলা ইত্যাদি করেই দিন কাটছিল তার। হঠাৎ করে সে জানতে পারে বাবা-মা তার বিয়ের পরিকল্পনা করছেন। বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত এই খবর বিচলিত করে তোলে তাকে। প্রিয়াঙ্কা সমস্যার কথা তার স্কুলের শিক্ষক মহাশয় মৃত্যুঞ্জয় মুর্মুকে জানিয়ে দেয়।খবর যায় নারী, শিশু ও সমাজ কল্যাণ দপ্তরের আওতাধীন ডিস্ট্রিক্ট চাইল্ড হেল্পলাইনের কাছে। ডিস্ট্রিক্ট চাইল্ড হেল্পলাইন, টামনা পুলিশ স্টেশন এবং ব্লক প্রশাসনের সহায়তায় বিয়ে বন্ধ করার ব্যবস্থা করা হয়।
পরিবারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিজের অধিকার রক্ষার যে উদ্যোগ নিয়েছিল চিপিদা বিদ্যামন্দির হাই স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী প্রিয়াঙ্কা, তার ফল মিলল এই সরকারি স্বীকৃতিতে। কন্যাশ্রী প্রকল্পের সদস্য হিসেবে শিক্ষা ও সাহসিকতার মিশ্রণে এই অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সে। প্রশাসনের কথায়, তার এই পদক্ষেপ কন্যাশ্রী প্রকল্প ও বিভিন্ন সরকারি সহযোগিতায় মেয়েদের অধিকারের প্রতি দৃঢ়তা প্রদর্শনের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

প্রিয়াঙ্কার এই সাহসিকতাকে স্বীকৃতি জানিয়ে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন তাকে বীরাঙ্গনা পুরস্কার ২০২৪ এর জন্য রাজ্যস্তরে মনোনীত করে। এর পাশাপাশি সে জেলা কন্যাশ্রী পুরস্কার ২০২৪ এবং জেলা স্তরের সাহসিকতার পুরস্কার অর্জন করেছে। জেলা কন্যাশ্রী দিবসের অনুষ্ঠানে তাকে সম্মানিত করা হয় । কলকাতার রবীন্দ্র সদনে পশ্চিমবঙ্গ শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন ,নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজ কল্যাণ দপ্তর আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে আজ ২১ নভেম্বর রাজস্তরের পুরস্কারে সম্মানিত করা হয় তাকে।
“এই জয় শুধু আমার নয়, এটি প্রতিটি মেয়ের স্বপ্ন যারা মর্যাদা ও ক্ষমতায়নের সঙ্গে বাঁচতে চায় “ পুরস্কার গ্রহণের সময় বলল প্রিয়াঙ্কা। তার পাশে দাঁড়ানোর জন্য সে প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানায়।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রিয়াঙ্কার সাহসিকতাকে প্রশংসা করে বলা হয়েছে, তার এই পদক্ষেপ প্রতিটি মেয়ের সাফল্যের প্রতীক।
প্রিয়াঙ্কার এই সাহসিকতার গল্প রাজ্যের অসংখ্য মেয়েকে সাহস জোগাবে, তাদের অধিকার নিয়ে সচেতন হতে শেখাবে এবং সমাজের বাঁধা-ধরা নিয়মের বাইরে একটি নতুন জীবনের দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

Post Comment