insta logo
Loading ...
×

রান্না হবে কীসে? জুটবে হোটেলের খাবার? তীব্র গ্যাস সংকটে নাজেহাল পুরুলিয়া, লাইনে আমজনতা

রান্না হবে কীসে? জুটবে হোটেলের খাবার? তীব্র গ্যাস সংকটে নাজেহাল পুরুলিয়া, লাইনে আমজনতা

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিতেই চরম ভোগান্তির শিকার পুরুলিয়াবাসী। বারে বারে চেষ্টা করেও গ্যাস বুকিং না হওয়ায় রীতিমতো দিশেহারা উপভোক্তারা। ‘গ্যাস না পেলে রান্না হবে কীভাবে?’ এই চিন্তাতেই এখন রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছে গোটা পুরুলিয়া জেলায়। গত এক-দুই সপ্তাহ ধরে গ্যাস বুক করেও অনেকে বাড়িতে সিলিন্ডার পাননি। অগত্যা বাধ্য হয়ে খালি গ্যাস সিলিন্ডার কাঁধে নিয়েই ডিস্ট্রিবিউশন কেন্দ্রগুলিতে লম্বা লাইন দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

গ্যাস না থাকায় বাড়িতে হাঁড়ি চড়ছে না। ফলে বাইরে থেকে খাবার কিনে খাওয়ার উপক্রম তৈরি হয়েছে বহু পরিবারে। গ্যাস বুকিংয়ের পুরনো ব্যবস্থাও কাজ করছে না বলে অভিযোগ। এই চরম ভোগান্তির কথা জানাতে গিয়ে সুজাতা রায় নামে এক উপভোক্তা বলেন, “আগে যে নম্বরের সাহায্যে গ্যাস বুকিং করতাম, সেই নম্বর থেকে আর কোনও রেসপন্স পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে অফিসের কাজ ছেড়ে আজ সরাসরি গ্যাস বুকিং করতে এসেছি”। একই রকম অসহায়তার সুর শোনা গেল আরেক উপভোক্তা কৈলাসপতি মাহাতোর গলায়। চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বাড়িতে গ্যাস শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই গ্যাস বুকিং করে সিলিন্ডার নিতে এসে দেখি অফিস বন্ধ। অফিস থেকে বলছে কালকে আসতে। তাই আজকে বাধ্য হয়ে বাড়ির সবাইকে হোটেলে খাবার খেতে হবে”।

একদিকে গ্রাহকদের যখন এই হাঁসফাঁস অবস্থা, অন্যদিকে এই পরিস্থিতির জন্য ডিলাররা গ্যাসের জোগানের ঘাটতিকেই মূল কারণ হিসেবে দায়ী করছেন। আতঙ্কের কারণে একসঙ্গে অনেক উপভোক্তা ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারে ভিড় জমাচ্ছেন এবং বারবার ফোন করছেন, যার ফলে ডিলাররাও ঘোর সমস্যায় পড়েছেন বলে দাবি তাঁদের। ঠিক কেন এই সংকট? পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে গ্যাস ডিলার সৌমেন দত্ত বলেন, “নতুন সিস্টেম অনুযায়ী কমার্সিয়াল গ্যাস সাপ্লাই পুরোপুরিই বন্ধ। এবং ডোমেস্টিক গ্যাসও আগের তুলনায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কম পাওয়া যাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে আমরা গ্যাস তাদেরই দিচ্ছি, যারা ওটিপি -র মাধ্যমে ডিজিটাল বুকিং করেছেন”। সব মিলিয়ে, জোগান কম এবং মানুষের আতঙ্কের জেরে পুরুলিয়ায় রান্নার গ্যাস নিয়ে আপাতত এক চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কবে এই সংকট মিটবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে জেলার আমজনতা।

Post Comment