দেবীলাল মাহাত, পুরুলিয়া:
ভেঙ্গে পড়েছে কলেজের বিল্ডিং। আগাছায় ভরে গেছে কলেজ চত্বর। পুরোপুরি বন্ধই হয়ে গেছে কলেজ। তবু আজও পুরুলিয়ার হোমিওপ্যাথি কলেজের বহির্বিভাগে নিয়ম মেনে বসেন অধ্যক্ষ মনীন্দ্র জানা। দেখেন রোগী। বিনামূল্যে দেন ওষুধ। গরীব মানুষগুলোর মুখে হাসি ফুটে ওঠে।
না কোন সিনেমার দৃশ্য নয় যে দেখে দর্শকের মন হু হু করে উঠবে। এ হলো কঠোর বাস্তব। পুরুলিয়া শহরের উপকণ্ঠে দুলমি এলাকায় ১৯৬৯ সালে গড়ে ওঠে হোমিওপ্যাথি হাসপাতালটি। পরে এখানেই ১৯৮০-৮২ সালে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। আসন সংখ্যা ৫০ টি। মেধা তালিকা অনুযায়ী ভর্তি নেওয়া হতো ২৫ টি আসনে। বাকি ২৫ টি ডোনেশন সিট। এই ভাবেই কলেজ চলতে থাকে বেশ কয়েক দশক ধরে। সমস্যা তৈরি হয় ২০০৩-০৪ বর্ষ থেকে। সেই বছর তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার জানায় সম্পূর্ণ মেধাতালিকা মেনে কলেজে ছাত্র ভর্তি করতে হবে। তারপরেই কমে আসতে থাকে ছাত্র ভর্তির সংখ্যা। ডোনেশন সিটে ছাত্র ভর্তি না হওয়ায় কলেজের আয় বন্ধ হয়ে যায়। তারপর ২০০৮ সালে ছাত্র কোনও ছাত্র ভর্তি না হওয়ায় সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ হয়ে যায় হোমিওপ্যাথি কলেজটি। আতান্তরে পড়েন কলেজের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।চরম অর্থসংকটে দিন কাটাতে হচ্ছে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। ২০১২ সালে কলেজ খোলার ব্যাপারে উদ্যোগ নেন তিন জেলার ১২ জন বিধায়ক। চিঠি লেখেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে। রাজ্যে শাসক দলের পরিবর্তনের পর সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করাও হয়েছিল যে, পুরুলিয়ার হোমিওপ্যাথি কলেজটিকে সরকার অধিগ্রহণ করবে। আশার আলো দেখতে থাকেন কলেজের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী সহ জেলার মানুষ। ঘোষণার ১২ বছর পরেও কলেজটি আর সরকারি ভাবে অধিগ্রহণ করা হয়নি। বন্ধ কলেজে চুরি হয়ে যাচ্ছে নানা জিনিসপত্র। লাগাতার অবস্থান সত্যাগ্রহ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে লোকসেবক সংঘ। নিট ফল? এখনও অধরা।

আশা তবু মরেও মরে না। অন্তত নিজ কর্তব্যে অবিচল অধ্যক্ষকে দেখে আশা তো করতেই পারেন দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ। কলেজ বন্ধ হয়ে গেছে কবে। তবুও প্রতিদিন সকাল ও বিকালে বহির্বিভাগ খুলে চিকিৎসা পরিষেবা দেন অধ্যক্ষ। রোজ রোগী দেখেন ৫০-৬০ জন। বেশিরভাগ রোগী দিনমজুর । কারোও কাছে পয়সা নেন না তিনি। আড়শার বাসিন্দা সন্তোষ মাঝি,শহরের বাসিন্দা বিবেক বাউরী বলেন, ডাক্তার বাবুকে অনেক ধন্যবাদ। বিনা পয়সায় তিনি আমাদের ওষুধ দেন। চিকিৎসক মনীন্দ্র জানা জানান, ওদের কথা ভেবে এখনও দুবেলা বহির্বিভাগে বসে তাদের চিকিৎসা দিই। বাড়ি থেকেই ওষুধ নিয়ে আসি। এই ভাবেই সারা জীবন তাদের পাশে থাকতে চাই। তিনি বিশ্বাস করেন নিশ্চয় একদিন হোমিওপ্যাথি কলেজটি সরকারিভাবে অধিগ্রহণ করা হবে। সেই অপেক্ষায় দিন গুনছেন অধ্যক্ষ মনীন্দ্র জানা। আর এ জেলার গরিব মানুষও ।











Post Comment