সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া :
দিন দুয়েক আগেই হুড়ার লধুড়কা চণ্ডেশ্বর ময়দান থেকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছিলেন সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর দিকে। বলেছিলেন, উন্নয়ন নিয়ে তর্কে নামতে। তারই জবাব দিতে সরস্বতী পূজার দিন সাংবাদিক সম্মেলনে যা তা ভাষায় ডায়মন্ডহারবারের সাংসদকে আক্রমণ করলেন পুরুলিয়ার সাংসদ।
অভিষেক সভাকে মেগা শো বলে আখ্যা দিয়েও সম্প্রতি তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ডের একটি উক্তিকে কটাক্ষ করেন সাংসদ। অভিষেককে ‘পতিদাহ’র জনক আখ্যা দিতে গিয়ে নিজেও ইতিহাস বিকৃত করে বসেন সাংসদ। বলেন, “সতীদাহর জনক রাজা রামমোহন রায়।” আসল তথ্য হলো সতীদাহ প্রথা নিবারণে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি।
সেদিন অভিষেক বলেছিলেন, “বাম জমানায় স্থানীয় পুলিশ কর্মীরাও সকাল ১০টায় থানা থেকে বের হতে ভয় পেতেন। শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি পুরুলিয়ার উন্নয়ন করাই হলো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবথেকে বড় সাফল্য।”
সাংসদ বলেন, “মাওবাদীদের ডেকে এনেছিল তৃণমূলই। তাদের দলের বিভিন্ন পদে প্রাক্তন মাওবাদীরা রয়েছে। কিষেনজিকে খুন করিয়ে, কাউকে কাউকে ঘুষ দিয়ে দলে ভিড়িয়েছে ওরা। অন্য কোন দল ক্ষমতায় এলে ফের মাওবাদীদের বার করার ছক রয়েছে তাদের। তবে আর বিষয়টা সহজ হবে না বিজেপি এখন অনেক শক্তিশালী।”
ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ সেদিন দাবি করেছিলেন ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূলের পক্ষে ৯-০ ফল হবে।
পুরুলিয়ার সাংসদের জবাব,” ৯-০ হবে তবে তা বিজেপির পক্ষে। রাজ্যে বামেদের মতই মহাশূন্য হবে তৃণমূল। “
বেশ কয়েকজনের উদাহরণ দিয়ে অভিষেক বলেছিলেন, সিপিআই(এম)-এর সেই হার্মাদরা এখন জার্সি বদলে বিজেপিতে গেছে। এটি আসলে নতুন বোতলে পুরনো মদ।
জ্যোতির্ময় বলেন, ” দলবদলের ইতিহাস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে ভালো কেউ জানেন? প্রথমে কংগ্রেস, পরে তৃণমূল গড়ে বিজেপির সঙ্গী হন। অটল বিহারীর হাতে পায়ে ধরে দলকে দাঁড় করান। ফের কংগ্রেস জোটে গেছেন।”
চণ্ডেশ্বর ময়দানের রণসংকল্পে যুবরাজ কেন্দ্রের বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছিলেন। তারই জবাব দিয়ে সাংসদ জ্যোতির্ময় বলেন, ” ইউপিএ আমলে ১০০ দিনের কাজে বাংলা পেয়েছিল ১০ হাজার কোটি টাকা। গত দশ বছরে মোদি সরকার এই প্রকল্পে ৫৪ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। অথচ সঠিক হিসাব দেয়নি রাজ্য। তাই টাকা বন্ধ।”
“আমি জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোকে চ্যালেঞ্জ করছি, মোদী সরকারের ১২ বছরের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসার জন্য। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত ১৫ বছরে যা করেছেন, আমি সেই রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসব।” এই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জবাবে তীব্র আক্রমণ করেন জ্যোতির্ময়। বলেন, “আপনি কে? মুখ্যমন্ত্রীকে বলুন, গোটা মন্ত্রী পরিষদকে বলুন আমি বসতে রাজি আছি। একদিন আগে জানিয়ে দেবেন। আগের রাতেই পৌঁছে যাব। আমার তো হেলিকপ্টার নেই। “
পুরুলিয়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে ডিভিসি এবং জাতীয় সড়কের উদাহরণ সামনে আনেন সাংসদ। বলেন রাজ্য সরকারের অসহযোগে একলব্য বিদ্যালয় স্থাপন হয়নি। কেন্দ্রের উদ্যোগে অযোধ্যা পাহাড়ে পর্যটনের উন্নয়ন করতে দেওয়া হয়নি।
অভিষেক সেদিন পুরুলিয়া হাওড়া ট্রেনগুলোর বিলম্বের প্রসঙ্গে আক্রমণ করেছিলেন সাংসদকে। এদিন সাংসদ বলেন,” কিছু মেরামতির জন্য বিলম্ব হচ্ছিল, এখন তা অনেকটাই কেটে গেছে। বিলম্ব হওয়ার জন্যও রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার উল্লেখ করেন পুরুলিয়ার সাংসদ। বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন রেলমন্ত্রী ছিলেন পুরুলিয়া ঝাড়গ্রাম রেলপথের সার্ভেও কি করাতে পেরেছিলেন। আমরা শুধু সার্ভে নয়, রুট চার্ট প্রস্তুত করেছি। যে রাজ্য সরকার একটা ফ্লাই ওভার বানাতে এনওসি দেয় না, তারা এতটা জমি দেবে? ” সন্দেহ প্রকাশ করেন সাংসদ।
এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভুয়ো ডিগ্রিধারী, প্যারাশুট নেতা, কয়লা চোর এই সব বিশেষণে তীব্র আক্রমণ করলেন সাংসদ। বলেন বাংলার বাইরে তৃণমূলের অস্তিত্ব না থাকলেও ‘ভাইপো বাবু’ অন্তরাষ্ট্রীয় সম্পাদক। কারণ পাকিস্তান ও বাংলাদেশে তৃণমূল কংগ্রেসের শাখা রয়েছে।”











Post Comment