insta logo
Loading ...
×

আস্থায় দোস্তি হাতে ফরিস্তা পুলিশ

আস্থায় দোস্তি হাতে ফরিস্তা পুলিশ

বিশ্বজিৎ সিং সর্দার, অযোধ্যা :

আস্থা মানেই ভরসা!
ভরসা আনে দোস্তি।
আর সেই বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে ফরিস্তার ভূমিকায় পুলিশ।
সেই সব গ্রামের মানুষের কাছে তো দেবদূত হবেই পুলিশ, যারা সরকার দুয়ারে এলেও নিতে পারেন না সরকারি সুবিধা। কখনও দূরত্ব, কখনও পেটের টান, কখনও স্রেফ দ্বিধা ধন্দের টানাপোড়েন।

সেই সমস্ত বাধা সরিয়ে একপাতে বসে পড়ল পুলিশ আর অযোধ্যা পাহাড়ের আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামগুলির আম জনতা। শীতের রোদ পিঠে মেখে সর্বজনীন বনভোজনের উদ্দেশ্য যে সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বা ভরসা গড়ে দেওয়ার আস্থা প্রকল্পরই এক অঙ্গ, তা বলে দেওয়ার প্রয়োজন রাখে না। বনভোজনের মেনুতে ছিল গরম গরম খিচুড়ি, তরকারি আর শেষপাতে চাটনি।

জেলা পুলিশের উদ্যোগে শুক্রবার পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের রাঙা গ্রামের ফুটবল ময়দানে আয়োজিত শিবির কার্যত আশীর্বাদ নিয়ে এলো এলাকার মানুষজনের কাছে।

যাঁর দৃষ্টি কমজোর তিনি পেলেন চশমা। চক্ষু পরীক্ষা করা হলো তাঁদের।
একগুচ্ছ সরকারী পরিষেবার সুলুকসন্ধান নিয়ে বসে আছে পুলিশ। আর শিবিরকে কেন্দ্র করে দুঃস্থ মানুষদের ভিড়। তাঁদের পরিষেবা পাইয়ে দিতে পুলিশের গাড়িতে করে বাড়ি থেকে নিয়ে আসা হয়। পরিষেবা প্রদানের পর পুনরায় পুলিশের গাড়িতে করেই বাড়িতে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এলাকাবাসী আর পুলিশের মধ্যে যে দূরত্ব থাকে তার কারণে একসময় এখানে দানা বেঁধেছিল অতিবাম আন্দোলন। সে সব অতীত। সাধারণ মানুষ এবং সরকারী আধিকারিকদের মধ্যে দূরত্ব কম করতে আস্থা প্রকল্পের সূচনা করে পুলিশ। এ যেন পুলিশ আয়োজিত দুয়ারে সরকার। রাঙা গ্রামের ফুটবল ময়দানে সিভিক এবং পুলিশের হোম গার্ডদের কলম হাতে পরিষেবা প্রদান যেন ভিন্ন মাত্রা যুক্ত করেছিল।

ওই শিবিরে পরিষেবার মধ্যে ছিল জমি সংক্রান্ত পরিষেবা, পুলিশি পরিষেবা, বন দপ্তর সম্বন্ধীয় পরিষেবা, স্বাস্থ্য পরিষেবার পাশাপাশি চক্ষু পরীক্ষার বিশেষ আয়োজন। যেখানে শতাধিক মানুষের হাতে চশমা প্রদান করা হয়। দেওয়া হয় ঔষধ।
উপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়া জেলা পুলিশ সুপার অভিজিত বন্দ্যোপাধ্যায় , অতিরিক্ত জেলা শাসক (সাধারণ) আদিত্য বিক্রম হিরানি, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার কল্যাণ সিংহ রায়, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার যোধাবর ভীমরাও প্রমুখ।

জেলা পুলিশ সুপার অভিজিত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, শুধুমাত্র অযোধ্যার গরিব দুঃস্থ মানুষদের পরিষেবা পাইয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে শিবিরে শুধু পুলিশ নয়, বিভিন্ন দফতরের আধিকারিক এবং কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন। এলাকার উন্নয়নের বিরুদ্ধে যারা দাঁড়াবে তাদের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স অর্থাৎ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেন এসপি।

বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা সাধারণ মানুষেরা পরিষেবা পেয়ে বিরাট খুশি। পুরুলিয়া জেলা পুলিশের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন না ঘরের মেয়েরা। এই সমস্যা নিয়ে এসেছিলেন গ্রামবাসী ইন্দ্র সিং মুড়া। তাঁর সমস্যার সমাধান করে দিয়েছে পুলিশ।

গুন্ধলিডি গ্রামের জটল সিং মুড়া বলেন, “ঘরে বাস পাঠিয়ে পুলিশ নিয়ে এসেছে শিবিরে। পাট্টার জন্য আবেদন করলাম।” মুখে তাঁর অনাবিল হাসি। চোখে নতুন চশমা পরে সবকিছু বড়ো স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন যে!

Post Comment