নিজস্ব প্রতিনিধি, কাশিপুর :
দাবি ১২ পারসেন্ট কাটমানি! আর তা না পেয়ে কাজ করার পরেও বিল দিচ্ছে না তৃণমূলের পঞ্চায়েত। এমন অভিযোগ তুলে জেলা শাসকের দ্বারস্থ হলেন জেলা তৃণমূলেরই সদস্য। ই-মেল মারফত ওই অভিযোগে জেলাশাসককে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের সদস্য অনিরুদ্ধ মুখোপাধ্যায়। তিনি যে এলাকার বাসিন্দা কাশিপুর ব্লকের সেই সোনাথলি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তবে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি নিয়ম মেনে কাজ হয়নি বলে বিল দেওয়া হয়নি।
বুধবার বিকেলে এই অভিযোগের কথা প্রকাশ্যে আসতেই শাসক দল সহ প্রশাসনের মধ্যে তুমুল অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। সোনাথলি গ্রাম পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গেছে যে প্রকল্প ঘিরে অভিযোগ সেই প্রকল্প হলো
পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের অর্থানুকূল্যে বরাদ্দ হওয়া ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪৪ টাকায় ওই অঞ্চলের লড়ি সংসদে সৌর চালিত জল প্রকল্প। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে এই কাজ শুরু হয়েছিল। তা সম্পূর্ণ হয় জানুয়ারি মাসের শেষদিকে। পঞ্চায়েতের নির্মাণ সহায়ক নিয়ম মোতাবেক খতিয়ে দেখার পরও দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার বিল পায়নি বলে জেলাশাসকের কাছে অভিযোগ করা তৃণমূল নেতা বলেন, “আমাদের দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফ নির্দেশ, কোথাও কোন কাটমানি নেওয়া চলবে না। কিন্তু সোনাথলি গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ একটি সৌর চালিত জল প্রকল্পের কাজে ঠিকাদারের কাছে ১২ শতাংশ কাটমানি চাইছে। আর কাটমানি না দেওয়ায় বিল দিচ্ছে না। গোটা বিষয়টি জেলাশাসককে জানিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ
জানিয়েছি।”

পঞ্চায়েত এই প্রকল্পের কাজ পান সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়। তবে তিনি সরাসরি কাজ করেননি। তার হয়ে পেটি ঠিকাদার হিসেবে কাজটি করেন সুভাষ প্রামানিক। তাঁর অভিযোগ , ” কাজ শেষ হয়ে গেলে নির্মাণ সহায়ক খতিয়ে দেখার পরেও আমাকে বিল দিচ্ছে না পঞ্চায়েত। আমাকে বলা হয় কাজের ১২ শতাংশ টাকা জমা দিতে হবে। কারও ব্যক্তিগত পকেট ভরানোর জন্য আমি টাকা দেব না। তৃণমূল কংগ্রেস টাকা চাইলে আমি দেবো, তবে রসিদের ভিত্তিতে। কাটমানি হিসেবে নয়। তার জন্য বিলের টাকা যদি পড়ে থাকে পড়ে থাকবে। যতদূর যেতে হয় যাব।”
কাটমানির বিষয়টি মানতে চাননি সোনাথলি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মহাদেব টুডু। তিনি বলেন, ” ওই প্রকল্পে ৩৫০ ফুট মাটি খনন করার কথা। ঠিকাদার ১৬০ ফুট খুঁড়েছেন। নিয়ম মেনে মেনে কাজ হয়নি বলে আমরা বিল পেমেন্ট করিনি।” গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সঞ্জয় ব্যানার্জি জানান, ” নির্মাণ সহায়কের কাছে শুনেছি ওই প্রকল্পে ৩৩০ ফুট খনন করার কথা ছিলো। খনন হয়েছে ১৮০ ফুট। আমরা তো নিয়মের বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের অসুবিধা করতে পারি না। ঠিকাদারকে বলা হয়েছে নিয়ম মোতাবেক আপনি কাজ করুন। তারপর বিল পাবেন।” পঞ্চায়েতের নির্মাণ সহায়ক শান্তিময় পালকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিষয়টিতে তাল ঠুকছে বিরোধী দল বিজেপি। কাশিপুরের বিজেপি বিধায়ক কমলাকান্ত হাঁসদা বলেন, ” তৃণমূল মানেই তো কাটমানি। কাটমানি ছাড়া ওই দলে কিছু নেই।”











Post Comment