নিজস্ব প্রতিনিধি, কাশিপুর:
স্বাস্থ্য পরীক্ষা থেকে শুরু করে ওষুধ ও চশমা সব মিলিয়ে মানুষের দরজায় স্বাস্থ্যপরিষেবা পৌঁছে দিতে কাশিপুরে আয়োজিত সেবাশ্রয় শিবিরে ব্যাপক সাড়া মিলল। তিন দিনের এই শিবিরে ১৯০০ জন মানুষ নাম নথিভুক্ত করে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণ করেন। আয়োজকদের দাবি, সাধারণ মানুষের এই বিপুল অংশগ্রহণই প্রমাণ করে এলাকায় এই ধরনের উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা কতটা বেশি।
পুরুলিয়ার কাশিপুর বিধানসভার সোনাথলি গ্রাম পঞ্চায়েতের কালিয়াদা এমএসকে ময়দানে তিন দিন ধরে এই সেবাশ্রয় শিবির অনুষ্ঠিত হয়। শিবিরে ১৯০০ জন মানুষ রেজিস্ট্রেশন করেন। তাদের মধ্যে ১০০০ জনকে বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হয়, ৩০০ জনকে চশমা বিতরণ করা হয় এবং প্রায় ৫০০ জনের রক্ত পরীক্ষা করা হয় বলে আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে।
এই শিবিরের উদ্বোধন করেন রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পাদক স্বপন বেলথরিয়া। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য তৃণমূলের আরেক সম্পাদক তথা কাশিপুরের কো-অর্ডিনেটর হংসেশ্বর মাহাতো এবং রাজ্য তৃণমূল সম্পাদক সৌমেন বেলথরিয়া সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।
রাজ্য তৃণমূল সম্পাদক সৌমেন বেলথরিয়া বলেন, “মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। গ্রামের সাধারণ মানুষ অনেক সময় বিভিন্ন কারণে চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হন। তাই তাদের কাছে সরাসরি স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতেই এই সেবাশ্রয় শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। মানুষের যে সাড়া আমরা পাচ্ছি, তাতে আগামী দিনেও এই উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে করা হবে”।
তিনি আরও জানান, কাশিপুর বিধানসভা এলাকায় মোট ১৩টি ব্লক এবং হুড়া ব্লকের ৭টি অঞ্চল মিলিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ এই উদ্যোগের আওতায় আসবেন। সেই লক্ষ্যেই বিধানসভার প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে পর্যায়ক্রমে এই ধরনের শিবির আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই হুড়া ব্লকের একটি গ্রাম পঞ্চায়েতেও একই ধরনের সেবাশ্রয় শিবির করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
এর আগে কাশিপুরের গৌরাঙ্গডি গ্রাম পঞ্চায়েতের তালাজুড়িতে অনুষ্ঠিত সেবাশ্রয় শিবিরেও মানুষের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ দেখা গিয়েছিল। সেখানে প্রায় ১২০০ জন মানুষ নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। তবে কালিয়াদার শিবির সেই সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণাতেই কাশিপুর বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস এই সেবাশ্রয় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। মানুষের দরজায় স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।










Post Comment