insta logo
Loading ...
×

ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ভয় দেখিয়ে ১৮ লক্ষ প্রতারণা, কাটোয়া থেকে গ্রেপ্তার ১

ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ভয় দেখিয়ে ১৮ লক্ষ প্রতারণা, কাটোয়া থেকে গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিনিধি , পুরুলিয়া:

ডিজিটাল অ্যারেস্ট কী? কত বড়ো সাইবার প্রতারণা এই ডিজিটাল অ্যারেস্ট তা নিয়ে জেলা পুলিশের এক অনুষ্ঠানে বিশদে জানিয়েছিলেন পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়ারি। এই ফাঁদে মানুষ যাতে পা না দেন, তার জন্য নিয়মিত প্রচার চালাচ্ছে পুলিশ। তারপরেও
ডিজিটাল অ্যারেস্ট এর ভয় দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার ঘটনা ঘটে গেল। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ বিছালো তদন্ত। আর তারপরই এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। পুরুলিয়া সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া এলাকা থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার কাটোয়া থানার ঘোষহাট এলাকায় একটি গাড়ি পার্কিং-এর জায়গায় অভিযান চালিয়ে বিমল কুমার পাটোয়ারি নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতের বাড়ি ওই ঘোষহাট এলাকাতেই।

তদন্তে জানা গিয়েছে, একটি প্রতারণা চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল সে। ওই চক্র নিজেদের পুলিশ ও ক্রাইম ব্রাঞ্চের আধিকারিক পরিচয় দিয়ে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ভয় দেখিয়ে পুরুলিয়ার বলরামপুর এলাকার এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়।

অভিযোগকারী অমল কুমার পালের দাবি, গত ৯ ফেব্রুয়ারি তাঁর মোবাইলে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনে নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে বলা হয়, তাঁর আধার কার্ড ব্যবহার করে বেআইনি কাজ করা হচ্ছে এবং তাঁর নামে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অবৈধ লেনদেন চলছে। কিছুক্ষণ পর আরেক ব্যক্তি নিজেকে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসার পরিচয় দিয়ে একই অভিযোগ করেন এবং হোয়াটসঅ্যাপে কিছু নথি পাঠান।

পরে ভিডিও কলে এক ব্যক্তিকে পুলিশ আধিকারিকের পোশাকে দেখানো হয় বলে অভিযোগ। বিষয়টি বিশ্বাস করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ওই ব্যবসায়ী। তাঁকে জানানো হয়, তিনি ‘ডিজিটালি গ্রেপ্তার’ হয়েছেন এবং ঘর থেকে বেরোতে বা কাউকে কিছু বলতে পারবেন না।

অভিযোগ, মামলা মিটিয়ে দেওয়ার নামে তাঁকে একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রথমে ১২ লক্ষ ৮০ হাজার ২০০ টাকা আরটিজিএস করতে বলা হয়। কয়েক দিন পরে কোর্টে সিকিউরিটি ডিপোজিটের নাম করে আরও ৫ লক্ষ টাকা অন্য একটি অ্যাকাউন্টে পাঠাতে বলা হয়। বলরামপুরের একটি ব্যাঙ্ক শাখা থেকে প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা পাঠান তিনি।

পরে আরও টাকা দাবি করা হলে সন্দেহ হয় তাঁর। পরিচিতদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি বুঝতে পারেন প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং পুরুলিয়া সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সূত্র ধরে কাটোয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার ধৃতকে পুরুলিয়া সদর আদালতে তোলা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আরও কয়েক জন জড়িত থাকতে পারে। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

Post Comment