insta logo
Loading ...
×

শিক্ষামন্ত্রীর এক্স-পোস্টে নতুন করে আশার আলো!স্নাতক স্তরে কুড়মালি পঠনপাঠন চালুর দাবিতে জে কে কলেজে ডেপুটেশন

শিক্ষামন্ত্রীর এক্স-পোস্টে নতুন করে আশার আলো!স্নাতক স্তরে কুড়মালি পঠনপাঠন চালুর দাবিতে জে কে কলেজে ডেপুটেশন

শুভদীপ মাহাত, পুরুলিয়া:

রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলের একটি পোস্ট ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখছেন কুড়মালি ভাষাভাষী মানুষজন ও পড়ুয়ারা। আর শিক্ষামন্ত্রীর সেই বার্তার পরেই স্নাতক স্তরে কুড়মালি ভাষার পঠনপাঠন চালুর দাবি পুরুলিয়ায় ফের একবার জোরালো হয়ে উঠল। এই দাবিতেই আজ পুরুলিয়ার জে কে কলেজে ডেপুটেশন দিলো ‘অল ওয়েস্ট বেঙ্গল কুড়মালি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন’।

এদিনের এই ডেপুটেশন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়ার সিধো-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুড়মালি বিভাগের অতিথি অধ্যাপক আশিস মাহাত এবং ওই বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা। তাঁরা জে কে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শান্তনু চট্টোপাধ্যায়ের হাতে এই ডেপুটেশন তুলে দেন। ডেপুটেশন দেওয়ার পাশাপাশি অধ্যক্ষের কাছে কুড়মালি ভাষা সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক তথ্যও তুলে ধরেন অধ্যাপক আশিস মাহাত। তিনি জানান, কুড়মালি মূলত পুরুলিয়া তথা ছোটনাগপুর অঞ্চলের একটি অত্যন্ত প্রাচীন আদিবাসী ভাষা । বর্তমানে এই ভাষার প্রচলন শুধুমাত্র এই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং পশ্চিমবঙ্গের উত্তর প্রান্তের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের কিছু অঞ্চলেও এই ভাষাভাষী মানুষের দেখা মেলে।

শিক্ষাক্ষেত্রে এই ভাষার বর্তমান অবস্থান তুলে ধরে সংগঠনের তরফে জানানো হয়, ঝাড়খণ্ডের রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয়, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বিশ্ববিদ্যালয় (রাঁচি), কোলহান বিশ্ববিদ্যালয় (চাইবাসা) এবং বিনোদ বিহারী মাহাতো কয়লাঞ্চল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ধানবাদ) বর্তমানে কুড়মালি বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে পঠনপাঠন চলছে। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রামের সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয় এবং পুরুলিয়ার সিধো-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়েও এই ভাষায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। তবে সিধো-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত মোট ১১টি মহাবিদ্যালয়ে স্নাতক স্তরে কুড়মালি ভাষার পঠনপাঠন চালু থাকলেও, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা বাকি মহাবিদ্যালয়গুলিতে এখনও তা শুরু হয়নি।

বাকি কলেজগুলিতেও অবিলম্বে এই ভাষার পঠনপাঠন চালুর দাবিতে বিগত কয়েক বছর ধরে একাধিক সংগঠন বহুবার ডেপুটেশন দিলেও কোনো সুফল মেলেনি। তবে গত ১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকেল ৫টা ৪৯ মিনিটে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী মাননীয় ব্রাত্য বসুর এক্স হ্যান্ডেলে করা একটি পোস্ট ঘিরে ফের নতুন করে আশার আলো তৈরি হয়েছে পড়ুয়াদের মনে। শিক্ষামন্ত্রীর সেই ইতিবাচক বার্তার ফলস্বরূপ এবং কুড়মালি ভাষার প্রসারের লক্ষ্যেই এদিন জে কে কলেজে এই ডেপুটেশন প্রদান করা হয় ও অন্যান্য কলেজগুলিতেও ডেপুটেশন দেওয়ার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

Post Comment