সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:
পুরুলিয়া শহরের কর্পূরবাগান শিব কালিতলা এলাকায় বুধবারের ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘিরে তদন্তে নয়া তথ্য সামনে আসছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বেআইনি ভাবে মজুত রাখা বাজি থেকেই বিস্ফোরণ। ঘটনার তদন্তে ফরেনসিক দল আসছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। তিনি দাবি করেন, “ঘটনায় নাশকতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না এবং বিষয়টির এনআইএ তদন্ত হওয়া উচিত”।
অন্যদিকে, বিজেপির এই বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে শাসকদল তৃণমূল। পুরুলিয়া জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি গৌরব সিং বলেন, “ভোট সামনে থাকায় বিজেপি উস্কানিমূলক মন্তব্য করছে”।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় বাড়ির মালিক নিশীথ বন্দ্যোপাধ্যায় তিনতলায় ওয়েল্ডিংয়ের কাজ তদারকি করছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা গৌতম সহিস ওই কাজে যুক্ত ছিলেন। বিস্ফোরণে দু’জনেই গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার সময় মালিকের স্ত্রী ও সন্তানরা বাড়িতে না থাকায় বড় বিপদ এড়ানো গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা পম্পা ব্যানার্জি ও ধর্মনাথ সিং জানান,”বাড়িতে বাজি মজুতের বিষয়টি জানি না।” প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বাড়ির প্রথম তলায় বাজি রাখা ছিল এবং বিস্ফোরণে সেই অংশের চালা উড়ে বাড়ির পিছনের গাছে পড়ে যায়। এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে পোড়া সামগ্রী ও বারুদের গন্ধ।
ঘটনাস্থলে তুবড়ির খোলা ও দুটি ব্যাগ উদ্ধার হয়েছে। একটি কমলা রঙের ব্যাগে সাদা কাগজে একাধিক মহিলার নামের পাশে ‘এগ’ ও ‘ভেজ’ লেখা ছিল, যা নিয়ে নতুন করে রহস্য তৈরি হয়েছে। এটি খাবার সরবরাহ সংক্রান্ত নাকি অন্য কোনও সাংকেতিক চিহ্ন—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ইতিমধ্যেই বাড়িটি সিল করে দেওয়া হয়েছে এবং এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।










Post Comment