বিশ্বজিৎ সিং সর্দার, পুরুলিয়া:
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পুরুলিয়ায় চাকরি হারালেন সাড়ে চারশর বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকা।
চাকরিহারা শিক্ষকদের ভরসা এখন মুখ্যমন্ত্রী! এসএসসি মামলায় রায়ে জেলা জুড়ে শিক্ষক মহলে হতাশার ছায়া। চাকরি হারালেন ৪৫০-রও বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকারা। এছাড়া গ্রুপ সি ও ডি চাকরি হারাদের সংখ্যা আলাদা। ঠিক কতজন চাকরি হারালেন পুরুলিয়ায়? সেই সংখ্যা-তত্ত্বে সরকারি তরফে কোন তথ্য না মিললেও পুরুলিয়ায় চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক -শিক্ষিকা মঞ্চ থেকে এমন তথ্যই মিলেছে। চোখের জলের বাঁধ ভেঙেছে তাদের। কাঁধে রয়েছে একাধিক দায়িত্ব। অনেকের কাঁধেই রয়েছে ব্যাংক ঋণের বোঝা। তাই দিশাহারা চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকারা। পুরুলিয়ার চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা মঞ্চের তরফে গাড়াফুসড়ো হাইস্কুলের শিক্ষক শুভাশীষ পান বলেন, “প্রায় সাড়ে চারশ শিক্ষক শিক্ষিকার চাকরি গিয়েছে এই রায়ে। স্কুলে স্কুলে দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা। ” শিক্ষিকা সুস্মিতা মাহাতো বলেন, “যাঁরা যোগ্য, ন্যায়সঙ্গত পথে দুর্নীতিমুক্ত ভাবে চাকরি পেয়েছে
তাদের কাছে এই রায় যন্ত্রণাদায়ক। ” মঞ্চের শিক্ষক শিক্ষিকাদের দাবি, “অবিলম্বে যোগ্যদের পুনর্বহাল করতে হবে।”
পাড়া ব্লকের ভাগাবাঁধ হাইস্কুলের শিক্ষক রমেশচন্দ্র মাহাত বলেন, তাঁদের স্কুলের মোট ৫ জন শিক্ষক এই রায়ে চাকরিহারা। রঘুনাথপুর -২ নং ব্লকের একটি স্কুলের শিক্ষক বিজয়কুমার মাহাত বলেন, “আদালত অযোগ্য শিক্ষকদের বেতন বন্ধ করে দিতে বলেছে। অর্থাৎ তাদের হাতে তো অযোগ্যদের তালিকা আছেই, তাহলে শুধু অযোগ্যদের বাতিল না করে, আমাদের চাকরি বাতিল করার খামখেয়ালি রায় কেন?
পুরুলিয়া বিজ্ঞান কেন্দ্রের সামনে বৃহস্পতিবার বিকেলে জমায়েত করেন মঞ্চের শিক্ষক শিক্ষিকারা।এই কঠিন পরিস্থিতিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা। আগামী ৭ই এপ্রিল নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে তাঁদের নিয়ে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে তিনি কী দিশা দেন সেই অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।
পুরুলিয়ার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) মহুয়া বসাক বলেন, ” চাকরি হারানোর সংখ্যা কত, কত জন শিক্ষকতার কাজে যোগ দিয়েছিলেন এসব কিছুই এখন বলতে পারব না। এই বিষয়ে কোন স্কুলে আমরা কোন নির্দেশ পাঠাচ্ছি না। যতক্ষণ না কমিশনার আমাদেরকে কোন নির্দেশ দেন।”
Post Comment