insta logo
Loading ...
×

কুড়মি আন্দোলনে কি এবার ব্যাঘ্র গর্জন? জয়পুরে জয়রাম সভা ঘিরে তুঙ্গে উৎসাহ

কুড়মি আন্দোলনে কি এবার ব্যাঘ্র গর্জন? জয়পুরে জয়রাম সভা ঘিরে তুঙ্গে উৎসাহ

নিজস্ব সংবাদদাতা, জয়পুর :

রাত পোহালেই জঙ্গলমহলে প্রথম রাজনৈতিক সমাবেশ করতে চলেছেন ঝাড়খণ্ডের ডুমরির বিধায়ক, ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারি মোর্চার সুপ্রিমো জয়রাম মাহাতো, সমর্থকদের কাছে অবশ্য টাইগার নামেই তিনি পরিচিত। কুড়মি যুবদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা এখন এক নতুন ঢেউ তুলেছে। জয়পুরের ফরেস্ট মোড় গোবিন্দ মাহাতো স্টেডিয়ামে শনিবার থেকেই সাজো সাজো রব। স্টেজ, বাঁশের ব্যারিকেড, পোস্টার—সবই প্রায় প্রস্তুত। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে উচ্ছ্বাস তুঙ্গে। জেকেএলএম যুব সভাপতি চিকু মাহাতো বলেন, ভালোই ভিড় হবে। এলাকার শোষিত বঞ্চিত মানুষদের নিয়ে কথা বলবেন টাইগার।

ঝাড়গ্রামের জামবনিতে সম্প্রতি বাঁদনা উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে জয়রামের শায়েরি—“ইয়ে জঙ্গলমহলকে গলিও সে এক আওয়াজ আয়া হে, উঠো নওজওয়ানও, ফির সে ইনকিলাব আয়া হে”—ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। তারপর থেকেই জঙ্গলমহলের কুড়মি যুবকদের কাছে তিনি এক প্রতীক, এক প্রতিবাদের মুখ। তাঁদের দাবি, কুড়মি সমাজের আন্দোলন যখন দিশাহীন হয়ে পড়েছিল, তখন নতুন পথ দেখাচ্ছেন টাইগার জয়রাম।

জঙ্গলমহলে টাইগারের দলের শক্ত সংগঠন এখনও গড়ে ওঠেনি। পুরুলিয়ায় সম্প্রতি কিছুটা ভিত্তি তৈরি হলেও তা জমায়েত টানার মতো বড় নয়। তবু সমর্থকদের ভরসা ‘টাইগার’-এর জনপ্রিয়তা। প্রতিটি ব্লক থেকে গাড়ির ব্যবস্থা করেছে সংগঠন। ঝাড়খণ্ড থেকেও বহু সমর্থকের আসার সম্ভাবনা ধরে নিয়েই সতর্ক পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ নজরদারি চলছে। ২০ সেপ্টেম্বর কোটশিলায় কুড়মি সমাজের রেল অবরোধকে ঘিরে অশান্তি, পুলিশি অভিযানে গ্রেফতার ও গ্রামে আতঙ্কের আবহে জিউদারু গ্রামে গিয়েছিলেন জয়রাম। আন্দোলনের গনগনে আঁচে সেই গ্রামে তাঁর আগমন নতুন চেতনা সৃষ্টি করে বলে দাবি স্থানীয়দের। কিন্তু পরে কোটশিলার ঘটনায় ধৃতদের জামিন হওয়ার পর ২৪ অক্টোবর কুড়মি সমাজের প্রধান নেতা অজিত প্রসাদ মাহাতো প্রকাশ্যে জয়রামকে ‘ভাড়াটে খেলোয়াড়’ আখ্যা দেন। সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

সব মিলিয়ে জয়পুরের সমাবেশ ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—এ কি কুড়মি আন্দোলনের নতুন মোড়, না কি রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সূচনা? টাইগার জয়রাম কি সত্যিই কুড়মি যুবসমাজের গ্রহণযোগ্য মুখ হয়ে উঠছেন, না কি আবেগকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে নতুন ভোটের রাজনীতি? ভাষা, সংস্কৃতি, পরিচয় আর বঞ্চনার প্রশ্নকে সামনে রেখে জয়পুরের সভা সেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে।

Post Comment