নিজস্ব প্রতিনিধি, মানবাজার :
জিততে হবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে। জিততে হবে অন্তত তিরিশ হাজারের বেশি ভোটে। এমন সিদ্ধান্তে মানবাজার বিধানসভা এলাকায় দলীয় কর্মী সম্মেলন ঘিরে তৃণমূলের রাজনৈতিক তৎপরতা নতুন মাত্রা পেল। সোমবার মানবাজারের রাধাগোবিন্দ কমিউনিটি হলে অনুষ্ঠিত কর্মী সম্মেলনে শুধু প্রচারের রণকৌশল নয়, জয়ের মার্জিন নিয়েও কর্মীরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন। ভোটের এত আগেই মার্জিন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে কেন?
রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে সংগঠনের শক্তি প্রদর্শন ও কর্মীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এই ধরনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি মানবাজার এলাকায় দলীয় মতভেদের ইঙ্গিতের মধ্যেই এই সম্মেলন সংগঠনকে এক ছাতার নিচে আনতে সাহায্য করেছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এদিনের সম্মেলনে মানবাজার বিধানসভা এলাকার ২৩টি গ্রাম পঞ্চায়েতের নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। মানবাজার-১ ও পুঞ্চা ব্লকের মোট ২০টি পঞ্চায়েতের অঞ্চল নেতৃত্বের পাশাপাশি হুড়া ব্লকের তিনটি পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। বুথস্তরের কর্মীদের উপস্থিতি সম্মেলনের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয় বলে মনে করছেন দলীয় নেতারা জানান।রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে সংগঠনের শক্তি প্রদর্শন ও কর্মীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এই ধরনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় দলীয় অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও মতভেদের ইঙ্গিতের মধ্যেই এই সম্মেলন সংগঠনকে এক ছাতার নিচে আনতে সাহায্য করেছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। উপস্থিত নেতাদের বক্তব্যে উঠে আসে মূলত তিনটি বিষয়। সংগঠনকে জোরদার করা, জনসংযোগ বাড়ানো এবং প্রতিটি বুথে সক্রিয়তা বৃদ্ধি। রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশ মেনে রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে এলাকায় প্রচার বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বারবার খবরের শিরোনামে এসেছে মানবাজার বিধানসভা এলাকা। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নেতৃত্বের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে কতিপয় নেতাকর্মীর বৈঠক ও রাজ্য নেতৃত্বকে চিঠি দেওয়ার ঘটনাও সামনে আসে। তবে জেলা নেতৃত্ব সেই উদ্যোগকে সমর্থন করেনি। বদলে জোর দেওয়া হয়েছে দলোয় ঐক্যে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এদিনের কর্মী সম্মেলনে সেই ঐক্যের চিত্রই ফুটে উঠেছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি পুরুলিয়া সফরে এসে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এলাকায় প্রচার জোরদার করার বার্তা দিয়েছিলেন। তার পর থেকেই জনসংযোগ কর্মসূচি বাড়ানোর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
গত লোকসভা নির্বাচনে মানবাজার বিধানসভা এলাকায় শাসকদল প্রায় ১৫ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে ছিল। ফলে আসন্ন নির্বাচনের আগে সংগঠন শক্তিশালী করা ও জয়ের ব্যবধান বাড়ানোর লক্ষ্যে কর্মী সম্মেলনের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল।










Post Comment