বিশ্বজিৎ সিং সর্দার, পুরুলিয়া:
রবিতে ছিলো চাঁউড়ি। সোমবার বাঁউড়ি। রাত পোহালেই সংক্রান্তি। টুসু পরবের বাজারে পুরুলিয়া শহর জুড়ে শুধু মাথা আর মাথা। সম্প্রীতির বাঁধনে দুর্গাপূজার বাজারকেও যেন হার মানালো মকর বাজার। বিকিকিনির পশরা সাজিয়ে বসেছে হিন্দু। মুসলিম বিক্রেতাও সামগ্রী নিয়ে বসেছে বাজারে। তেজি বাজার হাসি ফোটাচ্ছে উভয়ের মুখেই।

পুরুলিয়ার শ্রেষ্ঠ উৎসব পৌষ পরব। পৌষ সংক্রান্তিতে বাড়িতে বাড়িতে পিঠে পুলি বানিয়ে খাওয়ার পাশাপাশি ‘মকর ডুব’ ( মকর সংক্রান্তির পবিত্র তিথিতে স্নান) এর পর নতুন পোশাক পরার রেওয়াজ রয়েছে রুখামাটির এ জেলায়। ফলে পরবকে শিয়রে নিয়ে নতুন পোশাক কেনাকাটার ধুম শুরু হয়েছে পুরুলিয়া শহরে। চকবাজার, মেনরোড থেকে কাপড়গলি — সর্বত্র জমজমাট ভিড়। সারাবছর ধরে কেন এই পরবের অপেক্ষায় থাকে পুরুলিয়াবাসী, এই ভিড় তা জানান দিচ্ছে। দাম যে বিরাট কিছু তা নয়। একশো দুশোতেও মিলছে নতুন কাপড়।
পুরুলিয়া বাজারে কেনাকাটা করতে আসা শেফালী বাউরী বলেন, “পৌষ পরব উপলক্ষে পরিবারের সদস্যদের জামাকাপড় কেনার জন্য জন্য এসেছি। এই উৎসবে পিঠে মুড়ি খাওয়া-দাওয়ার পাশাপাশি নতুন কাপড় পরা নিয়ম।” একই কথা বলছেন ক্রেতা কালাচাঁদ মাহাত।

পুরুলিয়া বাজারের দোকানদার বাদশা খান বলেন,”আমি গত ১৬ বছর ধরে দোকান দিচ্ছি। প্রত্যেক বছরের মতো মকর পরব উপলক্ষে এ বছরও দোকান দিয়েছি। এ বছর বাজারে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জামা কাপড়ের বিক্রিও বেশ ভালই রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ভিড় বেশি রয়েছে।”
ক্রেতা বাবলি পরামানিক বলেন,
“আগে মহিলারা বাড়িতেই থাকতেন। এখন অনেকেই স্বনির্ভর হয়েছেন। বর্তমান সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডার পাওয়ায় তাদের বিশেষ সুবিধে হয়েছে। যার ফলে চার থেকে পাঁচ মাস টাকা জমালে বিশেষভাবে কেনাকাটার সুযোগও পাচ্ছেন তারা।”










Post Comment