insta logo
Loading ...
×

রঙ বেরঙের টুসুর রঙে রঙিন পুরুলিয়া

রঙ বেরঙের টুসুর রঙে রঙিন পুরুলিয়া

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

সুবর্ণরেখা নদীর এক পাড়ে বাংলা, অন্য পাড়ে ঝাড়খণ্ড—ঝালদার তুলিনে মকর সংক্রান্তির পুণ্যলগ্নে এক মহামিলনের দৃশ্যের সাক্ষী থাকল জঙ্গলমহল। মকর পরবে হাজার হাজার পুণ্যার্থী পুণ্যস্নানে নামলেন সুবর্ণরেখা, কাঁসাই-সহ বিভিন্ন নদীঘাটে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। মকর উৎসবে কার্যত মিনি কুম্ভের রূপ নেয় পুরুলিয়া জেলা। টুসুর চৌডল হাতে টুসু গান গাইতে গাইতে মহিলারা জেলার বিভিন্ন নদীঘাটে ভিড় জমান। চারিদিক টুসুর রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। বসে মেলা, বিভিন্ন জায়গায় আয়োজন করা হয় টুসু প্রতিযোগিতার। পাশাপাশি আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল ছৌ নাচ, ঝুমুর নাচ, মোরগ লড়াই-সহ নানা লোকায়ত সংস্কৃতির অনুষ্ঠান।পুরুলিয়ার আড়শা ব্লকের দেউলবেড়া ঘাটে পুণ্যার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। একই চিত্র দেখা যায় দেউলঘাটা কাঁসাই নদীতেও, যেখানে বহু ভক্তের সমাগম হয়। ঝালদার প্রাক্তন পুরপ্রধান প্রদীপ কর্মকার জানান, “প্রতিবছর বাড়ির মেয়ে বউদের নিয়ে আসি। মকর সংক্রান্তির পুণ্যলগ্নে স্নান করি সুবর্ণরেখায়।”

অঘ্রাণ সংক্রান্তি থেকেই টুসু পরবের সূচনা হয়। এক মাস ধরে টুসুকে ঘরের মেয়ের মতো আরাধনা করা হয়। মকর পরবে টুসু ভাসানের সময় তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ । সেই মনখারাপ কিছুটা ভোলাতে টুসু মেলা ও গানে-গানে টুসু ভাসানে চলে মুড়ি-ঘুগনির পিকনিক।
মানভূম কালচারাল অ্যাকাডেমি ও পুরুলিয়া জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় কাঁসাই নদীতে সরকারিভাবে মকর পরব পালিত হয়। এদিন বহু মানুষ কাঁসাই নদীর তীরে ভিড় করেন। এবছর দেউলবেড়ায় বড় বড় চৌডলের ট্রেন্ডিং নজর কেড়েছে।
সুবর্ণরেখার তীরে পুণ্যার্থী আনন্দ চন্দ্র বলেন, “এই পরব আমাদের সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।”
যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জেলার সমস্ত নদী ও জলাশয়গুলিতে মোতায়েন ছিল পর্যাপ্ত পুলিশ।

Post Comment