নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
একদিকে যানজট নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে যাত্রী সুরক্ষা। এই দু’টি লক্ষ্যকে সামনে রেখে পুরুলিয়া শহরের টোটোগুলিকে কিউআর কোডের আওতায় আনতে উদ্যোগী হল প্রশাসক পরিচালিত পুরুলিয়া পুরসভা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শহরে টোটোর প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যপঞ্জিও তৈরি করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার পুরুলিয়া পুরসভার উদ্যোগে কিউআর কোড সংযুক্তিকরণ শিবিরের প্রথম দিনে মোট ৪৮টি টোটোকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়। মানভূম স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন ক্যাম্পাসে আয়োজিত শিবিরে আঞ্চলিক পরিবহন দপ্তরে নথিভুক্ত ২৪০টি টোটোর কাগজপত্র প্রস্তুত থাকলেও প্রথম দিনে ৪৮টি টোটোতেই কিউআর কোড সংযোজন সম্পন্ন হয়।পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরে প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৭ হাজার টোটো চলাচল করলেও প্রকৃত নথিভুক্ত টোটোর সংখ্যা ১৩০০ থেকে ১৫০০-এর বেশি নয়। এই বিশাল ফারাকের জেরেই শহরে যানজট, অবৈধ পার্কিং ও ভাড়া সংক্রান্ত নৈরাজ্য বেড়ে চলেছে বলে প্রশাসনের ধারণা।
নতুন ব্যবস্থায়, টোটোর গায়ে থাকা কিউআর কোড মোবাইলে স্ক্যান করলেই জানা যাবে সংশ্লিষ্ট টোটোর যাবতীয় তথ্য—মালিকের নাম, মোবাইল নম্বর, ঠিকানা ও রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিস্তারিত। এর ফলে ভাড়া-সহ যেকোনও বেনিয়মের ক্ষেত্রে যাত্রীরা সহজেই অভিযোগ জানাতে পারবেন।
পুরসভা ইতিমধ্যেই একাধিক নিয়ম কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাতীয় সড়ক বাদ দিয়ে শহরের মধ্যে ২৫টি নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরত্ব অনুযায়ী ভাড়া ঠিক করা হয়েছে। রুট অনুযায়ী আলাদা টোটো স্ট্যান্ড, শহরে গ্রামীণ টোটো ঢুকলে জরিমানা এবং একটি টোটোতে পাঁচ জনের বেশি যাত্রী হলে স্পট ফাইনের ব্যবস্থাও চালু হচ্ছে। পাশাপাশি মকর সংক্রান্তির পর থেকে শহরের টোটো গ্রামে এবং গ্রামীণ টোটো শহরে প্রবেশ করতে পারবে না বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পুরসভা সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, পরবর্তী শিবিরের দিনক্ষণ মাইকিংয়ের মাধ্যমে জানানো হবে। ধাপে ধাপে শহরের সমস্ত টোটোকেই এই কিউআর কোড ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের। যানজটমুক্ত পুরুলিয়া গড়ার পথে এই উদ্যোগ কতটা সফল হয়, সেদিকেই এখন নজর গোটা শহরের।











Post Comment