নিজস্ব প্রতিনিধি, কেন্দা:
বেসরকারি আবাসিক স্কুলের ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল পুরুলিয়ার কেন্দা এলাকায়। মৃত ছাত্রের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মারধর করে খুনের অভিযোগে স্কুলের সম্পাদক জগন্নাথ মাহাত ও প্রধান শিক্ষক গুণধর মাহাতকে গ্রেফতার করেছে কেন্দা থানার পুলিশ। ধৃতদের বাড়ি যথাক্রমে কেন্দা ও কলুহার গ্রামে। মঙ্গলবার তাদের পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হলে ৩ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
এদিকে, মৃত ছাত্র শম্ভু কুম্ভকারের (১৪) মায়ের আবেদনের পর মঙ্গলবার পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে ময়নাতদন্ত করা হয়। ময়নাতদন্তের সময় পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। দেহ পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার পর থেকেই স্কুলের সমস্ত পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার স্কুলে কোনো শিক্ষক বা ছাত্র ছিলেন না। যে ঘর থেকে শম্ভুর দেহ উদ্ধার হয়, সেই কক্ষটি তদন্তের স্বার্থে সিল করে দিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার প্রেক্ষাপট
রবিবার রাতে শম্ভুকে অচৈতন্য অবস্থায় স্কুল কর্তৃপক্ষ চাকলতোড় গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের দাবি, শম্ভু কেজি ওয়ান থেকে ওই স্কুলেই পড়ত। কিন্তু তার মৃত্যুর খবর স্কুল কর্তৃপক্ষ সরাসরি পরিবারকে জানায়নি। অন্যের মাধ্যমে ঘটনা জানাজানি হওয়ায় সন্দেহ তৈরি হয়।
সোমবার সকাল থেকেই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে গ্রামবাসী ও অভিভাবকদের একাংশ। পাশাপাশি পুরুলিয়া–মানবাজার রাজ্য সড়ক অবরোধ থাকে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। রাতে শম্ভুর মা নমিতা কুম্ভকারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে স্কুলের চারজনের বিরুদ্ধে মারধর, অপমান ও খুনের মামলা রুজু করে পুলিশ। এরপর আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেফতার করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, শম্ভুকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছিল, যার ফলে তার মৃত্যু হয়েছে। অতীতেও তাকে মানসিকভাবে হেনস্তা ও অপমান করা হতো বলে পরিবারের দাবি। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, শম্ভু আত্মঘাতী হয়েছে।
তদন্তের অগ্রগতি
পুলিশ জানিয়েছে, খুনের অভিযোগ হওয়ায় ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। স্কুলের ঘর থেকে একটি গামছা ও চাদর বাজেয়াপ্ত করেছে তদন্তকারীরা। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসায় মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য জানাতে পারেনি পুলিশ।
হেফাজতে থাকা অভিযুক্তদের দীর্ঘক্ষণ ধরে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রয়োজনে সিআইডির বিশেষজ্ঞ দলের সহায়তা নেওয়া হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।











Post Comment