বিশ্বজিৎ সিং সর্দার,পুরুলিয়া:
খবর করাই তাঁর কাজ। তিনিই হলেন খবর। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুকে রক্ত দিয়ে বাঁচালেন সাংবাদিক। রক্তের সংকট। এই যুক্তিতে আক্রান্ত শিশুর জন্য ব্লাড ব্যাংক থেকে মিলছিল না রক্ত। চরম সমস্যায় পড়েছিল আক্রান্তের পরিবার। খবর পেয়ে বুধবার বলরামপুর থেকে পুরুলিয়া দেবেন মাহাত গভর্মেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ছুটে আসেন সাংবাদিক বলরাম হালদার। রক্ত দিয়ে থ্যালসেমিয়া আক্রান্ত শিশুর প্রাণ বাঁচালেন তিনি।
গ্রীষ্মের প্রকোপ পড়লে প্রতিবছরই চরম রক্তের সংকট দেখা দেয় জেলাতে। রক্তের জোগান দিতে হিমসিম খেতে হয় ব্লাড ব্যাংকগুলোকে। কিন্তু গ্রীষ্মের শুরুতেই থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত শিশুদের জন্য মজুত রাখা রক্ত মিলছে না ব্লাড ব্যাংক থেকে। এমনি অভিযোগ উঠলো পুরুলিয়া জেলা সদর হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের বিরুদ্ধে। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত বিশাল গোপ নামে এক শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয় কয়েকদিন আগে। প্রতি মাসে রক্তের অভাব না হলেও অভিযোগ, এই মাসে শিশুটির জন্য রক্ত চাইতে গেলে তিন দিন ধরে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল ওই শিশুটির বাবা পঙ্কজ গোপকে। বিকাশের শারীরিক অবস্থা খুবই সংকটজক। আর এই ঘটনার খবর করতে হাসপাতালে পৌঁছান সাংবাদিক বলরাম হালদার ,বিশ্বজিৎ সিং সর্দার এবং কৃষ্ণেন্দু কুমার। শিশুটির কথা মাথায় রেখে রক্তের প্রয়োজন মেটাতে পাশে দাঁড়ালেন খোদ সাংবাদিক বলরাম হালদার। আক্রান্ত শিশুটিকে এক ইউনিট রক্ত দেন তিনি।
এবিষয়ে পুরুলিয়া জেলা স্বাস্থ্য মুখ্য আধিকারিক ডাঃ অশোক চন্দ্র বিশ্বাস জানান, “চাহিদা সম্পন্ন থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত শিশুদের রক্ত না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এই অভিযোগ একেবারেই কাম্য নয়। ব্লাড ব্যাংকের যে কর্মচারীদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শিশুটিকে আপৎকালীন সময়ে রক্ত দেওয়ার জন্য সাংবাদিককে ধন্যবাদ জানান তিনি।
Post Comment